বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: শেষবারের মতো গত ডিসেম্বর মাসে 25 বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট কমিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (Reserve Bank of India)। তাতে গৃহ ঋণ বা গাড়ির লোনের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন গ্রাহকরা। নতুন বছরে সুদের হার নির্ধারণ করার জন্য গত বুধবার থেকেই বৈঠকে বসেছে RBI এর ঋণনীতি কমিটি। আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার RBI গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রার নেতৃত্বাধীন এই কমিটি তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে। এমতাবস্থায়, ঋণগ্রহীতাদের সকলেরই আশা হয়তো এবার কমতে পারে সুদের হার।
ফেব্রুয়ারিতে কি ঋণে কমতে চলছে সুদের হার?
রিপোর্ট অনুযায়ী, মূল্যবৃদ্ধির হার দিনের পর দিন কমে যাওয়ায় গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত মোট 125 বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট কমিয়ে দিয়েছে RBI। গত ডিসেম্বরেই 25 বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট কমিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। তাতে হার কমেছে 5.25 শতাংশে। এর ফলে ভারতের বিভিন্ন ব্যাঙ্কে কমেছে ঋণের সুদ। আগামী দিনেও যে সুদ কমবে তার একটা ইঙ্গিত আগে থেকেই দিয়ে রেখেছিলেন RBI গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। যদিও সেই প্রতিশ্রুতির সময়কাল থেকে আজ পর্যন্ত অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মহলের অনেকেই বলছেন, এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সখ্যতা বাড়ার পাশাপাশি বড় চুক্তিতে পা দিয়েছে ভারত। একই সাথে আমেরিকার সঙ্গেও বাণিজ্য চুক্তি একপ্রকার চূড়ান্ত। ফলে সব দিক থেকেই চাঙ্গা হতে চলেছে ভারতের বাজার। তাই এখনই দেশের অর্থনীতিতে এইসব চুক্তির প্রভাব কতটা তা খতিয়ে না দেখে সুদ নিয়ে বিশেষ নাড়াচাড়া করবে না RBI। তাঁদের কথায়, “আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ঋণনীতি কমিটি ঋণের সুদ কমাবে না।” অনেকেই মনে করছেন, সাম্প্রতিক একাধিক কারণে ঋণের সুদ কমার সম্ভাবনা একেবারে নেই বললেই চলে।
অবশ্যই পড়ুন: পেনশনভোগীদের নিয়ে বাজেটে বড় ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের
এ প্রসঙ্গে অর্থনীতির অধ্যাপক রাজেন্দ্র পরামানিক জানিয়েছেন, “এই মুহূর্তে ভারতের যা পরিস্থিতি তাতে সুদ কমানোর দরকার পড়লেও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এই কাজ করবে না হয়তো। সবচেয়ে বড় কথা আমেরিকার সাথে চুক্তির শর্ত মেনে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। মূল্যবৃদ্ধির নিরিখে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সে দিকে চোখ রাখবে RBI।” এ প্রসঙ্গে এক অর্থনীতিবিদের দাবি, ভারতের বর্তমান অর্থনীতিকে বুঝে তবেই সিদ্ধান্ত নেবে RBI। সেক্ষেত্রে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করতে পারে তারা। সব মিলিয়ে বলাই যায়, ভারত এবং আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি ও আগের ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাদার অফ অল ডিলের কারণে ভারতীয় অর্থনীতির প্রভাব খতিয়ে না দেখে শুক্রবার সুদ ছাঁটাই করবে না দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক। ফলে কমবে না EMI ও।