প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই রাজ্য জুড়ে যেন উত্তেজনার পারদ চড়ছে। ভোট প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো খামতি রাখছে না কেউই, এমতাবস্থায় গতকাল পেশ করা হয়েছিল অন্তর্বর্তী বাজেট। এক কথায় বলা যায় এই বাজেটে কল্পতরু রূপে ধরা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একের পর এক প্রকল্পে ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে কর্মীদের বেতনও। এমতাবস্থায় রাজ্যে স্মার্ট সিটি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
কেন্দ্রের স্মার্ট সিটি গঠনের পরিকল্পনা
নাগরিকদের জন্য উন্নতমানের জীবন ও বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। আর এই লক্ষ্যেই তৈরি করা শুরু হয়েছিল স্মার্ট সিটি। ২০১৫ সালের ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের তরফে স্মার্ট সিটি মিশন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছিল। দেশের ১০০টি শহরকে বেছে নেওয়া হয়েছিল প্রথম ভাগে রূপান্তর ও পুনর্গঠনের জন্য। বাংলার ভাগ্যে জুটেছিল মাত্র চারটি শহর, আর সেগুলি হল নিউ টাউন, বিধাননগর, দুর্গাপুর এবং হলদিয়া। আর এবার রাজ্যের বেশ কিছু শহরের আধুনিকীকরণের চিন্তাভাবনা নিয়ে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। তৈরি হবে স্মার্ট সিটি।
বাজেটে স্মার্ট সিটি গঠনের ঘোষণা
গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, রাজ্যের সপ্তদশ বিধানসভা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চলা তৃতীয় সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশ করা হয়েছিল। সেখানেই রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘রাজ্যের অনেকগুলি শহরকে আধুনিক করে গড়ে তোলার জন্য এবার রাজ্য সরকার একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর ফলে শহরগুলি ব্যবসা, কর্মসংস্থান আরও উন্নত মানের হবে। এবং এই শহরগুলিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে।’ রাজ্য সরকার এই সংক্রান্ত প্রজেক্টের জন্য একটি কমিটি গঠন করবে। সেই কমিটি ২০২৬ সালের মধ্যে সমীক্ষা করে একটি রিপোর্ট জমা দেবে।
আরও পড়ুন: বিয়ের মরসুমে ধপ করে কমল সোনা, রুপোর দাম! আজকের রেট
অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন স্মার্ট সিটি গড়তে প্রাথমিক ভাবে, রাজ্যের ২৫টি শহর বা সদর এলাকাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আর সেই শহরগুলি হল— হাওড়া, বারাসত, ডায়মন্ড হারবার, বর্ধমান, দুর্গাপুর, বোলপুর, কৃষ্ণনগর, রায়গঞ্জ, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, মালদা, কল্যাণী, শ্রীরামপুর, অন্ডাল, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দিঘা, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, গঙ্গারামপুর, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং এবং নিউ টাউনের এনকেডিএ এলাকা। পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের কাজ নিয়ে সমীক্ষা করা হবে এখানে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘কোনও মানুষের ক্ষতি না করে আমরা কাজটা করব।’