সহেলি মিত্র, কলকাতা: বকেয়া ডিএ (Dearness allowance) মামলায় জোরদার ধাক্কা খেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal)। সুপ্রিম কোর্টের তরফে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকারকে কর্মচারীদের তাদের ন্যায্য ২৫% মহার্ঘ ভাতা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং পিকে মিশ্রের একটি বেঞ্চ জানিয়েছে যে কর্মচারীদের তাদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) প্রদান করার সরকারের আইনগত অধিকার রয়েছে। অতএব, আর্থিক সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের যুক্তি খারিজ করা হয়েছে। এবার এই বিষয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বকেয়া কি মেটানো হবে? জবাব দিলেন নেত্রী।
বকেয়া DA প্রদান নিয়ে জবাব দিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়
২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার সভাপতিত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান প্রক্রিয়া তদারকি এবং বেঞ্চে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে হাইকোর্টের দুই অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এবং একজন ঊর্ধ্বতন সিএজি কর্মকর্তাও থাকবেন। কমিটির চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখন লাখ টাকার প্রশ্ন, সরকার এই বিষয়ে কী ভাবছে?
আরও পড়ুনঃ RAC টিকিটে নেওয়া হবে অর্ধেক ভাড়া? রেলের কাছে গেল সুপারিশ
গতকাল বাজেটের পর সাংবাদিক বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টের ডিএ সংক্রান্ত নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘রায়ের কপি এখনও আমরা হাতে পাইনি। সেটা পড়ে দেখতে হবে। রায় নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না। যে কমিটি গড়ার কথা বলা হয়েছে, তাতে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিরা আছেন। পশ্চিমবঙ্গের কোনও প্রতিনিধি নেই। আমরাও মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিঠি গঠন করেছি। আইনি পরামর্শ নেব এবং সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। তাঁদের মতামত অনুযায়ী কাজ করব।’
পেনশন নিয়ে বড় বার্তা
কেন্দ্রীয় হারে ডিএ বিতর্কে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পেনশনের প্রসঙ্গ টেনেছেন মমতা। বলেছেন, ‘আর কোনও রাজ্যে পেনশন দেওয়া হয় না। পশ্চিমবঙ্গে যা পাওয়া যায়, আর কোথাও পাওয়া যায় না। পেনশন বন্ধ করে দিলে আমার অনেক টাকা বেঁচে যেত। কিন্তু যাঁরা পেনশনের উপর নির্ভরশীল, তা হলে তাঁরা কী করবেন? সরকারি কর্মীদের কথা চিন্তা করে তা সরকার দিয়ে থাকে। ’
আরও পড়ুনঃ ১৫০০ টাকা ভাতা! জানুন বাংলার যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্ট
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ তাদের রায় প্রদানের সময় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ১২ মাসে দু’বার মহার্ঘ্য ভাতা দেওয়া যাবে না। ৩০৯ ধারা এবং রোপা নিয়মের ক্ষমতা অনুযায়ী মামলায় ১৩টি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছে বেঞ্চ। বেঞ্চ আরও বলেছে যে মহার্ঘ্য ভাতা কোনও স্থির নয় বরং একটি গতিশীল সত্তা এবং এটি ক্রমাগত পরিবর্তিত হওয়া উচিত। রাজ্য সরকার যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ডিএ নিয়ম পরিবর্তন করে, তাহলে তা “স্বেচ্ছাচারী” এবং “অনিচ্ছাকৃত” বলে বিবেচিত হবে। আর এই বিষয়টি মোটেও বরদাস্ত করা হবে না।