প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তাই জনসংযোগ বৃদ্ধিতে জেলায় জেলায় উঠে পড়ে লেগেছে রাজনৈতিক দলগুলি। তার আগে গতকাল অর্থাত্ বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী বাজেট (Bengal Budget 2026) পেশ করল রাজ্য সরকার। এবং সুযোগ বুঝে ভোটের মুখে একের পর এক ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। বাড়ানো হল সরকারি কর্মীদের বেতন এবং মহার্ঘ ভাতা। কিন্তু এবার সেই বেতন বৃদ্ধি নিয়ে একদমই অখুশি পার্শ্ব শিক্ষকরা। তাই প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নামলেন তাঁরা।
বেতন বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষুব্ধ পার্শ্ব শিক্ষকরা
উল্লেখ্য, রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঘোষণা করেছিলেন যে, রাজ্যের প্যারা টিচার, শিক্ষাবন্ধু, স্পেশাল এডুকেটর ও স্কুল ম্যানেজমেন্ট স্টাফদের মাসিক বেতন ১,০০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আর এই বেতন বৃদ্ধি চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর হবে। এদিকে এই অল্প বেতনে বৃদ্ধিতে রীতিমত ক্ষুব্ধ পার্শ্ব শিক্ষকরা। তাঁদের দাবি এই বেতন বৃদ্ধি তাঁরা মানবে না কিছুতেই। আর এদের সঙ্গে প্রতিবাদে মদত দিয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি বাজেটকে দিশাহীন বাজেট বলে উল্লেখ করেন। নওশাদ বলেন, ‘‘ভাতাতেই সীমাবদ্ধ এই বাজেট। রাজ্যের নতুন শিল্প, বেকার যুবকদের জন্য চাকরি কিংবা কর্মসংস্থান এই সংক্রান্ত বাজেটে কোনও উচ্চারণ ছিল না। অত্যাধুনিক মানের শিক্ষাব্যবস্থা সংক্রান্ত কোনও ভাবনাচিন্তা বাজেটে ছিল না।”
আরও পড়ুনঃ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশানুযায়ী DA মেটাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার? মিলল উত্তর
পথে নামলেন আশা কর্মীরাও
শুধু রাজ্যের প্যারা টিচার, শিক্ষাবন্ধু, স্পেশাল এডুকেটর ও স্কুল ম্যানেজমেন্ট স্টাফরা বেতন বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেনি, তার সঙ্গে আশাকর্মীরাও স্বাস্থ্যভবনের সামনে ১০০০ টাকা বেতন বৃদ্ধিতে প্রতিবাদে নেমেছে। গতকাল বাজেটে ১০০০ টাকা বাড়িয়ে বেতন ৬২৫০ করা হয়েছে৷ পাশাপাশি, নতুন বাজেট অনুযায়ী ১৮০ দিনের মাতৃকালীন ছুটিও পাবেন আশাকর্মীরা৷ কিন্তু বিভিন্ন খাতে বকেয়া টাকা নিয়ে কিছুই জানান হয়নি স্বাস্থ্যভবনের পক্ষ থেকে, আর তাতে ক্ষুব্ধ সকলে৷ যদিও বিধান নগর ডিসি ও তাঁর বাহিনী আশাকর্মীদের স্বাস্থ্যভবনে যেতে বাধা দিচ্ছেন বলেই সূত্রের খবর৷ কিন্তু তাঁরা পাল্টা হুংকার জানিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন ঘেরাও এর।
আরও পড়ুন: রাজনীতিতে হাইকোর্টের আরেক বিচারপতি? বিশ্বজিৎ বসুকে নিয়ে বাড়ল জল্পনা
প্রসঙ্গত, গত মাসেই আশাকর্মীদের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তাল হয়েছিল কলকাতা৷ স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি সেই সময়। পরে বিদায়ী সরকারের শেষ বাজেট প্রকাশিত হবে বলে আশাকর্মীরা আশায় বুক বাঁধছিলেন। কিন্তু প্রত্যেকের জন্যই বাজেটের কিছু কিছু বরাদ্দ করলেও তা অত্যন্ত সাময়িক। এতেই ক্ষুব্ধ সকলে। যদিও এই প্রতিবাদ আন্দোলন নিয়ে এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোন প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।