প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আবাস যোজনায় (Bangla Awas Yojana) আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকার বরাদ্দ বন্ধ রেখেছে। যা নিয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে তরজা অব্যাহত। বারংবার এই জন্য নবান্নের তরফে চিঠিও পাঠানো হয়েছিল কিন্তু কিছুতেই কেন্দ্র মানেনি। বিজেপির দাবি, ভুয়ো উপভোক্তা ও অনিয়মের কারণে এই পদক্ষেপ। তাই বাধ্য হয়ে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে রাজ্যের কোষাগার থেকে অর্থ দেওয়া শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। এমতাবস্থায় ফের কাটমানির অভিযোগ উঠল বীরভূমের রামপুরহাটে।
কাটমানি না দেওয়ায় প্রাণনাশের হুমকি
স্থানীয় রিপোর্ট মোতাবেক, বীরভূমের রামপুরহাটে বিগত বেশ কয়েকদিন ধরে অভিযোগ উঠে আসছে যে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘরের জন্য ‘কাটমানি’ চাইছে পাইকর থানার মুরারই-২ ব্লকের জাজিগ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যা শিউলি বিবির স্বামী সমিউদ্দিন খান ওরফে বাবু শেখ ও ভিলেজ পুলিশ ওবেইদুর ইসলাম। এমনকি টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়ার অভিযোগ উঠল ওই দুইজনের বিরুদ্ধে। শেষে ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গত বুধবার সন্ধ্যায় পাইকর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন উপভোক্তা তথা নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েতের মুখলিশপুর গ্রামের বাসিন্দা আশিক নবি।
আরও পড়ুনঃ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশানুযায়ী DA মেটাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার? মিলল উত্তর
অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার ২
উপভোক্তা আশিক নবি অভিযোগ করেছেন যে, “গত ৩০ জানুয়ারি বাংলার বাড়ি প্রকল্পে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৬০ হাজার টাকা ঢোকে। তারপর থেকে সমিউদ্দিন ও ওবেইদুর ১৫-২০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জোর-জবরদস্তি করে। না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি ও টাকা ব্যাঙ্কে আটকে দেওয়া এবং অনুদান বাতিল করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিচ্ছে। তাই ভয় পেয়ে থানায় ওই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হয়েছি।” এদিকে অভিযোগ মিলতেই ওইদিন তদন্তে নামে পুলিশ। এবং রাতেই অভিযুক্ত দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ধৃতদের রামপুরহাট আদালতে তোলা হয়েছিল। সেখানে তাঁদের সাতদিন পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: মাধ্যমিকের মধ্যেই হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা, গোপন থাকবে পরীক্ষার্থীর পরিচয়?
কাটমানি প্রসঙ্গে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল। তিনি বলেন, “তৃণমূল মানেই চুরি, কাটমানি। শুধু এখানেই নয়। যেখানে যাবেন প্রতিটি জায়গায় তারা লুট করে যাচ্ছে।” অন্যদিকে তৃণমূলের ব্লক সহ সভাপতি সৌমেন মুখোপাধ্যায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বাংলার দরিদ্র মানুষদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিচ্ছেন যেখানে, সেখানে যদি কেউ এই প্রকল্পে দুর্নীতি করে থাকে তাহলে দল এবং প্রশাসন একযোগে ব্যবস্থা নেবে।” এদিকে কাটমানির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যা শিউলি বিবি।