DA মেটাতে লাগবে ১,০৪,০০,০০,০০,০০০ টাকা! লক্ষীর ভান্ডারের টাকা পাবেন তো?

WB DA Latest News Supreme Court order on DA Case West Bengal

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ DA মামলায় রাজ্য সরকারকে বড় নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত (WB DA Latest News)। সুপ্রিম কোর্টের সাফ বক্তব্য, যত দ্রুত সম্ভব রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মীর বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা DA দিয়ে দিতে হবে রাজ্যকে। এর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে একেবারে ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, অবিলম্বে বকেয়া DA-র 25 শতাংশ দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। বাকি 75 শতাংশের প্রথম কিস্তির টাকা আগামী 31 মার্চের আগেই রাজ্যের সরকারি কর্মীদের হাতে তুলে দিতে হবে। ভোটের আগে সরকারি কর্মীদের DA দিতে গিয়ে সদ্য বাড়ানো লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রকল্পগুলি মুখ থুবড়ে পড়বে না তো?

DA মেটাতে কত অর্থ প্রয়োজন?

বিগত দিনগুলিতে নিজেদের প্রাপ্য বকেয়া মহার্ঘ ভাতা আদায়ের দাবিতে পথে নেমেছেন সরকারি কর্মীরা। শুধু তাই নয়, বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় হারে DA দেওয়া হোক বলেও দাবি জানিয়ে এসেছে সরকারি কর্মীদের সংগঠনগুলি। এমতাবস্থায়, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন তারা। 2008 সাল থেকে 2019 সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া DA মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, সরকারি কর্মীদের 100 শতাংশ বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দিতে হবে রাজ্যকে। এরমধ্যে প্রথম 25 শতাংশ দিতে হবে অবিলম্বে। বাকি 75 শতাংশের প্রথম কিস্তির অর্থ দিতে হবে 31 মার্চের মধ্যেই।

আরও পড়ুনঃ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশানুযায়ী DA মেটাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার? মিলল উত্তর

জানা গিয়েছে, সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা কবে মেটানো হবে তার জন্য গঠন করা হবে একটি কমিটি। এই কমিটিকে নেতৃত্ব দেবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা। রাজ্য সরকারকে বকেয়া অর্থ মেটানোর দিন নির্ধারিত করতে হবে আগামী 6 মার্চের মধ্যে। পাশাপাশি শীর্ষ আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর হলো বা আদৌ কার্যকর হলো কিনা তা নিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট আগামী 15 এপ্রিলের মধ্যে জমা দিতে হবে সর্বোচ্চ আদালতে।

সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মীদের বকেয়া অর্থ অর্থাৎ 2008 থেকে 2019 পর্যন্ত আটকে থাকা মহার্ঘ ভাতার অর্থ যদি মেটাতে হয় সেক্ষেত্রে রাজ্যের প্রয়োজন পড়বে, প্রায় 10 হাজার 400 কোটি টাকা। অভিজ্ঞ মহলের অনেকেই মনে করছেন, বাংলার কোষাগারের অবস্থা যা তাতে এই অর্থ মেটানো এখনই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে যথেষ্ট কষ্টসাধ্য। কয়েকজন প্রাক্তন সরকারি আধিকারিক দাবি করছেন, আদালতের নির্দেশ মেনে সরকারি কর্মীদের বকেয়া DA মেটাতে হলে কোপ পড়তে পারে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প গুলিতে।

অবশ্যই পড়ুন: বিশ্বকাপে ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ প্রয়োগ করবে ভারত! হর্ষিতের বদলি হিসেবে টিম ইন্ডিয়ায় আসছেন ইনি

আটকে যেতে পারে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা?

বেশ কয়েকটি সূত্রের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য সরকার যদি সমস্ত সরকারি কর্মীকে তাদের প্রাপ্য অর্থ বুঝিয়ে দিতে যায়, সেক্ষেত্রে মমতা সরকারের স্বপ্নের প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে শুরু করে অন্যান্য সরকারি প্রকল্প ধাক্কা খেতে পারে। মনে করা হচ্ছে, আদালতের কড়া নির্দেশের পর সরকারি কর্মীদের বকেয়া মেটাতে গেলে লক্ষীর ভান্ডারের মতো একাধিক প্রকল্পের মাসিক ভাতা নির্ধারিত সময়ে আমজনতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নাও ঢুকতে পারে। এ নিয়ে অবশ্য রাজ্যের বাঘা আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বক্তব্য, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পগুলিতে হাত না দিয়েও সরকারি কর্মীদের বকেয়া মেটানো যায়। রাজ্য কোষাগার থেকে মন্দির তৈরি হচ্ছে। ইমাম ভাতার অর্থ যাচ্ছে। দুর্গা পুজোর সময় ক্লাবগুলোকে গাদাগুচ্ছের অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করলেই অর্থের জোগাড় হয়ে যাবে।

Leave a Comment