কলকাতা হাইকোর্টেও দুর্নীতির ছায়া! তদন্তের নির্দেশ বিচারপতির

Corruption In Case Listening

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে একের পর এক দুর্নীতি লেগেই রয়েছে। চাকরিতে নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে ব্যাংক, কয়লা, রেশন দুর্নীতি তো রয়েছেই। এই নিয়ে বিচারব্যবস্থাও চলছে জোর কদমে। কিন্তু এবার বিচারকেন্দ্র অর্থাৎ কলকাতা হাইকোর্টে মিলল দুর্নীতির (Corruption In Case Listening) ছায়া। জানা গিয়েছে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন মামলা তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে কারচুপির অভিযোগ বহুবার উঠেছে কলকাতা হাইকোর্টে৷ এবার সেই নিয়ে কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও৷

ঠিক কী ঘটেছিল?

সংবাদ প্রতিদিনের রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার, হাইকোর্টে অন্যান্য দিনের মতো এদিনও বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের ২৫ নং এজলাসে মামলার শুনানি চলছিল। এরপর তালিকার ১৬ নং মামলাটি শুনানির জন্য ডাকা হলে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী জানান, এই মামলাটি গতকাল তালিকার ৯২ নম্বরে তালিকাভুক্ত ছিল। কিন্তু এদিনই কীভাবে ১৬ নম্বরে উঠে এলো? জরুরি শুনানির আর্জি জানানোর রেকর্ড না থাকায় একই প্রশ্ন তোলেন এএসজি। এরপরই বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কোর্টের আধিকারিকদের কাছে তালিকা চেয়ে পাঠান এবং আদালত চত্বরে এমন দুর্নীতি দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

নিজের এজলাসে তদন্তের নির্দেশ বিচারপতির

বিচারপতি কৃষ্ণা রাও শুক্রবার, নিজের এজলাসে কোর্ট অফিসারদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, “বিকেল ৪.৩০ টের পর এজলাসে কী ঘটেছে, আমি জানি। আমি দুর্নীতি, তথ্য গোপন আর মুলতুবি চাওয়ার সম্পূর্ণ বিরোধী। আমার এজলাসে আমি এগুলো সহ্য করব না৷” এরপরেই তিনি নিজের এজলাসের আধিকারিকদের বিরুদ্ধেই তদন্তের নির্দেশ দিলেন হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে। জানা গিয়েছে, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নজরে আনার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: দু’দশক পর ফিরছে পুরনো প্রথা! BLO শিক্ষকদের কাজের চাপ বাড়াল কমিশন

এর আগে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও মামলার শুনানির সময় আইনজীবীদের আচরণ বা তাঁরা আদালতের নিয়ম পালন করছেন না বলে একাধিক বার সরব হয়েছেন৷ প্রায় প্রতিবারই মামলার শুনানি করতে করতে মাঝপথেই রেগে গিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন৷ এমনকি কয়েকদিন আগে বিচারপতি তাঁর এজলাসের আধিকারিকদের কাজের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। এজলাসে ফাইল না-পৌঁছানোয় তিনি বলেন, “এরপর থেকে আমি বিকেল সাড়ে চারটের পর নিজেই হাফপ্যান্ট পরে ফাইল খুঁজতে নামব৷ আমিই মামলা শুনব, আমিই নির্দেশ দেব৷” এখন দেখার পালা রেজিস্ট্রার জেনারেল কী রিপোর্ট পেশ করেন।

Leave a Comment