সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নগর নিরাপত্তা আর চুরি ছ্যাঁচড়ামি রুখার জন্য এবার বিরাট পদক্ষেপ নিল পাকিস্তান। হ্যাঁ, ম্যানহোলের ঢাকনা চুরির (Pakistan Manhole Cover Theft) মতো ঘটনাকে এবার গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে বিরাট শাস্তির ঘোষণা করেছে পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার। এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে এবার ১ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা জরিমানা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। নতুন ব্যবস্থাকে ইতিমধ্যে অনেকে ‘গাটার আইন’ নামে উল্লেখ করছে।
কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ যিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের কন্যা, তিনি এক ভিডিও বার্তায় ম্যানহোলের ঢাকনা চুরির বিষয়ে এবার কড়া হুশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সকালে ঢাকনা বসানো হলেও সন্ধ্যার মধ্যে তা উধাও হয়ে যাচ্ছে। আর এই চুরি বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন, শুধু চোরদের জন্য নয়য়, বরং যারা কিনবে বা বিক্রি করবে তারাও এই একই শাস্তি পাবে। যদি এই চুরির জেরে কারোর মৃত্যু ঘটে, তাহলেও এই সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করা হবে।
এদিকে এই কঠোর সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একাধিক মর্মান্তিক ঘটনা। কারণ, সম্প্রতি লাহোরের ডাটা দরবার এলাকার কাছে একটি খোলা নর্দমায় পড়ে এক মা ও তাঁর শিশু কন্যার মৃত্যু হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতা ওই মহিলার নাম সাদিয়া এবং শিশু কন্যার নাম রিদা ফাতিমা। উন্নয়নমূলক কাজ চলাকালীন খোলা ম্যানহোলে পরেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এছাড়াও সারগোধা শহরে একটি শিশু খোলা ম্যানহোলে পড়ে গেলে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায়। আর পাঞ্জাব জুড়ে এরকম দুর্ঘটনা দিনের পর দিন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
“जो गटर का ढक्कन चोरी करेगा, जो गटर का ढक्कन बेचेगा, जो गटर का ढक्कन ख़रीदेगा उसे एक से दस साल तक की सजा होगी।”
– नवाज शरीफ की बेटी पंजाब की मुख्यमंत्री मरियम नवाज ने बकायदा वीडियो जारी कर यह घोषणा की है।
पाकिस्तान मैं लोग गटर के ढक्कन इतने चोरी करने लगे हैं कि यह क़दम उठाना… pic.twitter.com/F5IhkjUPid
— Mukesh Mathur (@mukesh1275) February 6, 2026
আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্রে গুলির লড়াইয়ে খতম ৭ কুখ্যাত মাওবাদী, মৃত্যু ১ সেনা জওয়ানেরও
তবে প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, এর পেছনে সবথেকে বড় কারণ অর্থনৈতিক সংকট। কারণ, ম্যানহোলের ঢাকনায় থাকে বড় ভারী লোহার রিং, যার ওজন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কেজি। এমনকি বাজারে এটি ভালো দামে মেলে। ফলে দুষ্কৃতীরা এগুলো চুরি করে বিক্রি করছে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের দারিদ্র্য পরিস্থিতিও বেশ উদ্বেগজনক। কারণ, প্রায় ৪৫% মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে এবং ১৬.৫% মানুষ চরম দরিদ্র সীমাতে বসবাস করে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক ধীরগতি ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দরিদ্র আরও বাড়ছে। সেই আর্থিক চাপেই ছোটখাটো চুরি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছে প্রশাসন।