বিজেপি তৈরি করবে না ইস্তাহার, এবার চরম চমক গেরুয়া শিবিরের

BJP Election Manifesto

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছে শাসকদল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলি। জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে একের পর এক পরামর্শ দিয়ে চলেছে দলের শীর্ষ নেতারা। এমতাবস্থায় নির্বাচনী সংকল্পপত্রে (BJP Election Manifesto) মানুষের চাহিদা এবং সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল গেরুয়া শিবির। রাজ্যের কোণায় কোণায় মানুষের কাছে পৌঁছতে গতানুগতিকভাবে দলের ইস্তাহার তৈরির প্রথা ভেঙে, এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের পরামর্শ নিয়ে ইস্তাহার গড়ার সিদ্ধান্ত নিল।

ইস্তাহার কী?

নির্বাচনের আবহে যেকোনও রাজনৈতিক দলের কাছে নির্বাচনী ইস্তাহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসলে এই ইস্তেহার হল যদি কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে, তাহলে সেই দল আগামী পাঁচ বছর কী কী কাজ করবে, ইস্তাহারে তা তুলে ধরে এনে জনগণের সামনে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দলের ইস্তেহার নিজেদের মধ্যেই তৈরি করে নেয় নেতা মন্ত্রীরা। তবে এবার বঙ্গ বিজেপি নিল এক নয়া উদ্যোগ। দলের ইস্তাহার তৈরি করতে গিয়েই মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য বিজেপি। একের পর এক কর্মসূচি রূপায়ণের ভাবনা নিল।

সাংবাদিক বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য

রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ শনিবার, দলের ইস্তেহার নিয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করে বঙ্গ বিজেপি। এই কর্মসূচি নিয়ে ওই বৈঠকে নয়া রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। জানান, “তৃণমূল সরকারের হাত থেকে পশ্চিমবঙ্গবাসীর মুক্তি যখন নিশ্চিত, তখন আপনারাও আপনাদের পরামর্শ দিন। সেই কারণে ইতিমধ্যেই বিজেপির তরফে মানুষের দাবি ও সমস্যাগুলি সরাসরি শোনার জন্য রাজ্যজুড়ে ১০০০টি জায়গায় ড্রপ বক্স বসানো হচ্ছে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ড্রপ বক্সে সাধারণ মানুষ তাঁদের মতামত জমা দিতে পারবেন।” এছাড়া মেইল আইডি থাকছে। কিউআর কোড স্ক্যান করে বিজেপির ওয়েবসাইটে গিয়ে পরামর্শ জানানো যাবে।

আরও পড়ুন: কবে বেরোবে মাধ্যমিকের রেজাল্ট? মুখ খুললেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সভাপতি

প্রসঙ্গত, শুধু ড্রপ বক্স নয়, বিজেপির তরফে একটা টোল ফ্রি নম্বর থাকছে। নম্বরটি হল ৯৭২৭২৯৪২৯৪। বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গে ভারী শিল্প আনতে হলে, শিল্পবান্ধব রাজ্যের জন্য কী করতে হবে, তার পরামর্শ চাইছি শিল্পপতিদের কাছ থেকে। ১০ হাজার চিঠি লিখছি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষকে। আশা করছি, ফেব্রুয়ারির মাসের শেষে সংকল্পপত্র নিয়ে মানুষের কাছে যাব।” বিজেপির এই পদক্ষেপের ফলে বাংলার মানুষ সরাসরি শাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারবেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment