‘পার্টি অফিস চোর’ আরামবাগে তৃণমূলের যুব সভাপতির বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ দলের

Arambagh

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ভোট যুদ্ধের ময়দানে নেমে পড়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। টার্গেট একটা জনসংযোগ বৃদ্ধি করা। কিন্তু এই প্রস্তুতির মধ্যেই আরামবাগে (Arambagh) শাসক শিবিরে একের পর এক গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছবি ফুটে উঠল প্রকাশ্যে, যা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন তৃণমূল কংগ্রেস। জানা গিয়েছে, দলীয় কার্যালয় আত্মসাৎ করার অভিযোগ তুলে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পলাশ কুমার রায়ের বিরুদ্ধে বিতর্কিত পোস্টার ছড়িয়েছে এলাকায় এলাকায়।

পার্টি অফিসের জমি নিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

স্থানীয় রিপোর্ট মোতাবেক, হুগলির আরামবাগের গড়বাড়ি এলাকায় বামফ্রন্ট সরকারের আমল থেকেই তৃণমূলের নিজস্ব একটি পার্টি অফিস ছিল। স্থানীয় তৃণমূল নেতা পঞ্চানন পাত্রের উদ্যোগে এই পার্টি অফিস তৈরি হয়েছিল। ওখানেই দলীয় কাজ করা হয়। কিন্তু কয়েক বছর আগে তৃণমূলের নতুন করে পার্টি অফিস তৈরির জন্য দলের তৎকালীন ব্লক সভাপতি পলাশ কর্মীদের কাছে অর্থ সাহায্য চান। সেই কারণে কর্মীরা টাকাও দেন। সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা খরচ করে অফিসটিকে নতুন ভাবে গড়ে তোলা হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠছে পার্টি অফিসের জমি নিয়ে।

দলীয় সম্পত্তি হাতানোর উদ্দেশ্য ছিল নেতার?

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪-এর ১৬ ডিসেম্বর আরামবাগ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে জনৈক পার্থ রায়ের কাছ থেকে ২ শতক জমি দানসত্ত্ব করিয়ে নিয়েছিলেন পলাশ রায়। পরে সেটাকে দলের নামের বদলে নিজের নামে মিউটেশন ও কনভারশন করান। এমনকি বর্তমানে জমির খাজনাও মেটাচ্ছেন তিনি। আর তাতেই শুরু হয় শোরগোল। দলীয় সম্পত্তি পলাশ রায় নিজের নামে করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন নিজের গোষ্ঠীর লোকেদের মধ্যে। এতদিন বিষয়টি অবশ্য গোপন থাকলেও পরে পলাশের নামে পোস্টার মারার পরে সেটি প্রকাশ্যে আসায় ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে টিভি, মোবাইল! ৩৩ গ্রামে জারি কড়া নিষেধাজ্ঞা

খানাকুলের যুব তৃণমূল কর্মী মাসেদুল মল্লিক বলেন, “এলাকায় পলাশ রায়ের বিরুদ্ধে পোস্টার পড়েছে। কে বা কারা, এই কাজ করেছে, তা আমি বলতে পারব না। দুর্নীতিতে যাঁদের চাকরি গিয়েছে, তাঁদের নিয়ে ঘুরে বেড়ান। আমি চাইব, তাঁর বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ উঠেছে, তার সঠিক তদন্ত হোক। প্রায়ই শোনা যায় পলাশ রায় বড় মাপের নেতা। অথচ, লোকসভা নির্বাচনে তাঁর নিজের বুথেই দল হেরে বসে আছে।” অন্যদিকে অভিযুক্ত নেতার পক্ষে হয়ে কথা বলেছেন খানাকুল ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল যুব সভাপতি রাজীব ঘোষ। তিনি জানান, ‘এ সব কালিমালিপ্ত করার জন্য করা হয়েছে। পলাশদা সকলকে নিয়ে কাজ করেন। তবুও দল এটা তদন্ত করে দেখবে। ওখানে সিসিটিভি ছিল। সেই ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।”

Leave a Comment