সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলাজুড়ে চলছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইএর-র তথ্য সংগ্রহ। বর্তমানে চলছে শুনানি। তবে এই শুনানির ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র বা রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য নথি (Residential Certificate in SIR) হিসেবেই ধরা হচ্ছে। কিন্তু কোন ক্ষেত্রে সেই নথি প্রযোজ্য হবে বা গ্রহণ করা হবে তা নিয়ে এখনও অনেকের কাছে সংশয় থেকে যাচ্ছে। শনিবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দফতরে চিঠি পাঠিয়ে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানালো নির্বাচন কমিশন।
কোন ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র গ্রহণ করা হবে?
নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জেলা শাসক, অতিরিক্ত জেলা শাসক এবং কলকাতার ক্ষেত্রে কালেক্টর যে সমস্ত শংসাপত্রগুলো দিয়েছে, শুধুমাত্র সেগুলোকেই বৈধ বলে ধরা হবে। মোদ্দা কথা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা সরকারি আধিকারিকদের কাছ থেকে এই শংসাপত্র পাওয়া যেতে পারে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এমনকি কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, ১৯৯৯ সালের নিয়ম মেনে ওই সার্টিফিকেট পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বারা ইস্যু করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ কোভিডের সময় থেকে বন্ধের পর প্রথম পরিষেবা, আজ নতুন ট্রেন পাচ্ছে বাংলা
১৯৯৯ সালের নিয়ম অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে রয়েছেন কিন্তু যারা বাঙালি নন, তাদেরকে এই ডোমিসাইল সার্টিফিকেট দেওয়া হয়ে থাকে। পাশাপাশি আর্মি, ডিফেন্স বা প্যারামিলিটারি বাহিনীতে যারা চাকরি করে, তাদের কাছেও স্থায়ী বাসিন্দার সার্টিফিকেট থাকে। তবে হ্যাঁ, আবেদনকারীকে বা তার পরিবারের সদস্যদেরকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গে বিগত ১৫ বছর স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হবে। তাহলেই মিলবে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট। পাশাপাশি আবেদনকারী বা তার পরিবারের সদস্যদের পশ্চিমবঙ্গে নিজের বাড়ি থাকলে তারা এই সার্টিফিকেট পেতে পারে। এমনকি যারা পশ্চিমবঙ্গে জন্মেছে বা এখানকার স্কুল, কলেজে পড়াশোনা করছে, সেই প্রমাণ থাকলেও মিলবে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট। কমিশনের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই নির্দেশ পালন করতে হবে। নাহলে কোনওভাবেই এই সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হবে না।
আরও পড়ুন: আজও সোনা, রুপোর দামে পরিবর্তন! বাড়ল না কমল? দেখুন রেট
বলাবাহুল্য, রাজ্যে এসআইআর শুনানির শেষ দিনক্ষণ ছিল গতকাল অর্থাৎ শনিবার। তবে শুক্রবার পর্যন্ত রিপোর্ট বলছে যে, এখনও পর্যন্ত সব জায়গায় শুনানি শেষ হয়নি। সেক্ষেত্রে সময় আরও বাড়ানো হবে কিনা সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। যদিও কমিশন এ বিষয়ে কিছু চূড়ান্ত ঘোষণা করেনি। কিন্তু কী কারণে কমিশন এই চিঠি পাঠাল তা স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে এসআইআর শুনানিতে কোন কোন শংসাপত্রকে বৈধ বলে ধরা হবে, সেই বিভ্রান্তি দূর করার জন্যই হয়তো সিইও দফতরের কাছে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে কমিশন। এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।