প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে একদিকে যখন বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্য জুড়ে অন্যদিকে SIR মামলার শুনানি নিয়ে নজর রয়েছে দিল্লির সুপ্রিম কোর্টে। বিচারপতি এই মামলায় আর কী কী নির্দেশ দেয় তাই নিয়ে চলছে একাধিক আলোচনা। আর এই আবহে আজ, সোমবার ফের রাজ্য জুড়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অভিযান শুরু হল। জানা গিয়েছে, ২০ টি জায়গায় জোর কদমে তল্লাশি চালাচ্ছে আধিকারিকরা (Income Tax Department Raids)।
২০ জায়গায় আয়কর দফতরের অ্যাকশন
রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ সোমবার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে রাজ্য জুড়ে অ্যাকশন মোডে নামল ইনকাম ট্যাক্সের আধিকারিকরা। সাতসকালেই নিউটাউনের ইকো স্পেশ, পার্কস্ট্রিট-সহ ২০ জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইনকাম ট্যাক্সের আধিকারিকরা। মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। একাধিক অফিসের পাশাপাশি ব্যবসায়ীর বাড়িতেও হানা দিয়েছেন তাঁরা। নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া ৩ অভিজাত আবাসনের টাওয়ার ৩-এর নয় তলায় রাজেন্দ্র মাথুরের ফ্ল্যাটেও চলছে তল্লাশি। তবে শেষ পাওয়া আপডেট অনুযায়ী তল্লাশিকে ঘিরে এখনও বিশেষ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
কিছুদিন আগেই রাজ্যে হানা দিয়েছিল ED
গত মঙ্গলবার, কয়লা পাচার চক্রের মামলায় তদন্ত শুরু করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। সকাল থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের ৯ জায়গায় হানা দিয়েছিল তাঁরা। জানা গিয়েছিল প্রায় ২৫-৩০ জন ইডি আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি দল পশ্চিম বর্ধমানের নবগ্রাম এলাকায় তদন্তের পাশাপাশি কলকাতা, আসানসোল, দুর্গাপুর, পাণ্ডবেশ্বর-সহ আরও কিছু জায়গায় চালিয়েছিল তল্লাশি। ইডি সূত্রে খবর, গত কয়েকমাসে একাধিক অভিযান এবং বাজেয়াপ্ত নথিপত্র ঘেঁটে কয়লা পাচার মামলায় কয়েকজনের ব্যবসায়ীর নাম উঠে এসেছে। তাঁরা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে এই দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলেন। তবে শুধু কয়লা পাচার নয়, বালি দুর্নীতি কাণ্ড নিয়েও তদন্তে নেমেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের আবহে নতুন চমক, হুমায়ুনের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের অভিযোগ তৃণমূলের?
প্রসঙ্গত, কয়লা পাচার মামলায় কিছুদিন আগেই আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে অভিযান চালিয়েছিল ইডি। যা নিয়ে রীতিমত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। অবস্থা এতটাই বেগতিক ছিল যে সেই ঘটনার জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। কারণ অভিযানের খবর পেয়েই তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৎকালীন সিপি মনোজ ভার্মাকে নিয়ে অনুমতি না নিয়েই অফিসে ঢুকে বেশ কিছু তথ্য এবং একটি সবুজ ফাইল হাতে নিয়ে বেরিয়ে যায়। যা নিয়ে শুরু হয় হই হট্টগোল, প্রশ্ন ওঠে কিভাবে তদন্তের মাঝে এরূপ কর্মকান্ড হল। তাই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে যায় ইডি, যদিও পাল্টা মুখ্যমন্ত্রীও মামলা করেছেন।