SIR-র চাপে নাজেহাল, স্কুলের মধ্যেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা বিএলও-র

Bagda BLO Suicide

সৌভিক মুখার্জী, বাগদা: রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-র কাজ সামলাতে এমনিতেই হিমশিম খাচ্ছে বুথ লেভেল অফিসাররা। বিভিন্ন জায়গায় ঘটেছে প্রাণহানির মতো ঘটনা। তবে ফের কাজের চাপে স্কুলের মধ্যেই আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক বুথ লেভেল অফিসার তথা শিক্ষক (Bagda BLO Suicide)। জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছে বাগদার পাথুরিয়া এফপি স্কুলের অফিসে। এলাকার ৩০ নম্বর পার্টের বিএলও-র বিরুদ্ধেই এই আত্মঘাতী হওয়ার অভিযোগ।

স্কুলের মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা

এসআইআর-র কাজের চাপ সামলাতে না পেরে প্রথম দিন থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে বিএলও-রা। এমনকি অনেকে প্রাণও হারিয়েছে। কেউ অসুস্থ হয়েছে, আবার কেউ আত্মহত্যা করেছে। জানা যাচ্ছে, আজ সকালে বাগদার ওই স্কুলে ক্লাস ফোরের এক ছাত্রের পরিবারের সদস্য সার্টিফিকেট নিতে এসেছিলেন। কিন্তু অফিস খুলতেই ঝুলন্ত অবস্থায় ওই বিএলও-কে দেখতে পান বাড়ির লোক। তারপর সকলকে ডেকে আনেন তিনি। তড়িঘড়ি গ্রামবাসীরা তাঁকে উদ্ধার করে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে বর্তমানে চিকিৎসা চলছে তাঁর। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয় রিপোর্ট অনুযায়ী খবর, বিএলও-র নাম সরজিত বিশ্বাস। পরিবার অভিযোগ করছে, কাজের চাপেই হয়তো তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।

সবথেকে বড় ব্যাপার, গত ৯ নভেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসআইআর-র এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার কাজ চলেছে। তারপর থেকে শুরু হয়েছে শুনানি। একের পর এক নোটিশ জারি করা হচ্ছে সন্দেহভাজন ভোটারদের। এমনকি প্রায় ১ কোটি ৫১ লক্ষ ৯২ হাজার ৭৩৫ জন ভোটারকে শুনানির জন্য ইতিমধ্যে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বেশিরভাগের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত অনেকেই উপস্থিত হননি।

আরও পড়ুন: টেডি দিবসে প্রিয় মানুষকে এভাবে পাঠান শুভেচ্ছা, দ্বিগুণ বাড়বে ভালোবাসা…

কাজ বাকি থাকায় চাপ সামলাতে পারেননি হয়তো ওই বিএলও। এমনটাই অভিযোগ পরিবারের। শুধুমাত্র ফর্ম জমা দেওয়া নয়, বরং তথ্য যাচাই থেকে শুরু করে আপলোডের কাজও রয়েছে সেই বিএলও-দের মাথাতে। আর হাতে সময় খুবই কম। কারণ, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। তাই শুনানি শেষ না হওয়ার কারণে সময় বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে এখনও নির্বাচন কমিশন কিছু জানায়নি। সেই কারণেই হয়তো চাপ সামলাতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন ওই স্কুল শিক্ষক।

Leave a Comment