সৌভিক মুখার্জী, ফরিদাবাদ: হরিয়ানার ফরিদাবাদ (Faridabad) জেলা জেলের ভিতরে খুন হল অযোধ্যার রাম মন্দিরে হামলার ছক কষার অভিযোগে গ্রেফতার এক জঙ্গি অভিযুক্ত। মৃতের নাম আবদুল রহমান, বয়স ২০। জেলের অন্দরমহল সূত্রে খবর, রাত প্রায় আটটা নাগাদ এক সহবন্দির হামলায় তিনি গুরুতর জখম হন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?
জেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, রহমানের উপর হামলা চালায় একই জেলে বন্দি থাকা অরুণ চৌধুরী নামে কাশ্মীরের এক যুবক। ধারালো অস্ত্র জাতীয় বস্তু দিয়ে রহমানের মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। আর এই ঘটনার পরপরই জেল চত্বরে নিরাপত্তার আরও জোরদার করা হয়েছে।
জানা যায়, মৃত আবদুল রহমান উত্তরপ্রদেশের ফরিদাবাদ জেলার মিলকিপুর এলাকার বাসিন্দা। তদন্তকারী সংস্থা রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ মার্চ ফরিদাবাদের পালি গ্রামের কাছে যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয় তাকে। সেই অভিযানে অংশ নিয়েছিল গুজরাট এটিএস এবং হরিয়ানার এসটিএফ বাহিনী। রহমানের কাছ থেকে দুটি হ্যান্ড গ্রেনেডও উদ্ধার করা হয়, যা পরে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
এমনকি তদন্তে উঠে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, ভুয়ো পরিচয়ে ফরিদাবাদে বসবাস করছিলেন রহমান। আর স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে যেতেই অটোরিক্সা চালক হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি একটি ছোট খাবারের দোকানেও কাজ করছিলেন তিনি। আর শহরের উপকণ্ঠে একটি নির্জন টিউবওয়েল ঘরে বসবাস করতেন। নিরাপত্তা সংস্থার মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নজর এড়িয়ে চলতেন এবং কুকাজ করে বেড়াতেন।
আরও পড়ুন: “SIR হবেই, সব রাজ্যকে বুঝতে হবে..” মমতার মামলায় কড়া পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের
গোয়েন্দাদের দাবি, অযোধ্যার রাম মন্দির সহ একাধিক স্পর্শকাতর স্থানে হামলার ছক কষেছিল রহমান। প্রশাসনিক ভবনগুলোকেও টার্গেটের তালিকায় রাখা হয়েছিল বলে খবর। আর তার কাছ থেকে উদ্ধার ডিজিটাল ডিভাইসে মন্দির সংক্রান্ত ভিডিওর নকশা বা নির্দেশিকাও মিলেছে। যদিও নির্দিষ্ট হামলার দিন ঠিক জানা যায়নি। কিন্তু তদন্তকারীদের মতে, খুব শীঘ্রই হামলা হতে পারত।