বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: নিখুঁত নিশানা। সে যেন একেবারে ব্রহ্মাস্ত্র। লাগলেই শত্রু হবে খান খান! ভারতীয় সেনার হাতে এলো বিশ্বের সবচেয়ে ছোট এবং হালকা ওজনের কামান (DRDO New ATAGS)। হ্যাঁ, শত্রু শিবিরকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে সিদ্ধহস্ত 155 এমএম মাউন্টেড গান এট্যাগস। দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং উন্নয়ন সংস্থা বা DRDO র হাতে তৈরি এই অস্ত্র যেকোনও সময় বদলে দিতে পারে যুদ্ধের রঙ, পাল্টে দিতে পারে মহাযুদ্ধের ভবিষ্যৎ।
ভারতের এট্যাগস এর ক্ষমতা
ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং উন্নয়ন সংস্থার হাত ধরে তৈরি অ্যাডভান্সড টয়েড আর্টিলারি গান বা এট্যাগস 45 কিলোমিটার দূরে থাকা শত্রুকে নিমেষে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, এই বিগ গান হালকা ওজনের হওয়ায় 90 সেকেন্ডের মধ্যে তা সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এখানেই শেষ হচ্ছে না এর বৈশিষ্ট্য। DRDO আরও কিছু নতুন গান তৈরি করছে যেগুলি 85 কিলোমিটার দূর পর্যন্ত গোলা ছুঁড়তে পারবে।
দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং উন্নয়ন সংস্থার গবেষকদের দাবি, এই নতুন আর্টিলারি গানটির ওজন হবে 15 টনেরও কম। ওজনে কিছুটা হালকা হওয়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার এমনকি যুদ্ধবিমানে চেপেও মরুভূমি অঞ্চলে অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছে যেতে পারবে এই আর্টিলারি গান। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদেশি সংস্থাগুলির থেকেও অর্ধেক দামে এট্যাগস তৈরি করছে ভারতীয় সংস্থা। ইতিমধ্যেই নাকি এই সমরাস্ত্রের ক্ষমতা পরীক্ষা করে টাটা-কল্যাণী গ্রুপকে একসাথে 307টি এট্যাগস তৈরির অর্ডার দিয়েছে ভারতীয় সেনা। যা তৈরি করতে খরচ পড়বে কম করে 7 হাজার কোটি টাকা।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, 2027 সালের মধ্যেই অর্ডার অনুযায়ী প্রথম ধাপে এট্যাগস অস্ত্র বা আর্টিলারি গান তুলে দেওয়া হবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে। দ্বিতীয় ধাপে নাকি আরও হালকা এবং বহনযোগ্য এট্যাগস তৈরি করবে ভারতীয় সংস্থা। ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, এই আর্টিলারি গান যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর উপর হামলা চালিয়ে 90 সেকেন্ড থেকে এক মিনিটের মধ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যাবে। চোখের পলক পড়ার আগেই শত্রুর ধ্বংসাবশেষ দেখাবে এই অস্ত্র। এও জানা যাচ্ছে, ড্রোনের সাথে লড়াই করতেও সিদ্ধহস্ত এই এট্যাগস।
অবশ্যই পড়ুন: হয়েছে অস্ত্রোপচার, IPL এ খেলতে পারবেন না KKR স্টার হর্ষিত রানা?
সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, চিনের মতো শত্রুর লম্ফঝম্পো বন্ধ করে দিতে পারবে এই হালকা ওজনের কামান। ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর, এই ছোট আর্টিলারি গান তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ করে চিন সীমান্ত, লাদাখের মতো মরুভূমি অঞ্চল এমনকি বরফে ঢাকা এলাকার কথা মাথায় রেখে। বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, ভারতীয় বায়ু সেনার বিমানে করে তো বটেই সেই সাথে হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে ছোট ট্রাকে করে এই আর্টিলারি গান বহন করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। যা যুদ্ধক্ষেত্রে আদতেই নিজের জাত চেনাবে।