প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন শুরু হতে আর খুব বেশি দিন বাকি নেই, কিন্তু তার আগেই ফের শাসকদলের এক পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে উঠে এল যৌন নির্যাতনের ভয়ংকর অভিযোগ। আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই মহা বিতর্ক শুরু হয় হুগলির (Hooghly) চণ্ডীতলায়। ব্যাপক মারধোর করা হয় অভিযুক্তকে। ঘটনাস্থলে পুলিশ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও নির্যাতিতার আত্মীয়রা এবং স্থানীয় মানুষজন অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রিপোর্ট মোতাবেক হুগলির চণ্ডীতলার বরিজহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী তরুনীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠে আসছে। আর এই লাগাতার ভয়ংকর ঘটনার জেরে তরুনী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। সেই ঘটনা জানাজানি হতেই বিষয়টি সমাধান করার জন্য গ্রামে সালিশিসভা বসে। কিন্তু সেখানে কোনো সমস্যার সমাধান হয়নি উল্টে পঞ্চায়েত সদস্যকে ব্যাপক মারধোর করা হয়। শেষে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে চণ্ডীতলা থানার পুলিশ এবং থানায় নিয়ে যায়।
বিস্ফোরক অভিযোগ নির্যাতিতার দাদার
নির্যাতিতার দাদার অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে তাঁর বোনকে লাগাতার যৌন নির্যাতন করতেন ওই গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য। এক সপ্তাহ আগে তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন। এদিন চণ্ডীতলা থানায় লিখিত অভিযোগের পর গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে। তাঁর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নির্যাতিতার আত্মীয়রাও। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, “আমার পঞ্চায়েতের সদস্যরা একটি চিঠি দিয়েছেন পদক্ষেপ করার জন্য। নিশ্চয়ই আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই পালন করব।”
আরও পড়ুন: অষ্টম বেতন কমিশনে বদলে যাবে পেনশনের নিয়ম? জবাব দিল কেন্দ্র
নির্বাচনের আবহে তৃণমূলের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষজনদের মধ্যে যেমন ক্ষোভ জমেছে তেমনই চণ্ডীতলার বরিজহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতে রাজনৈতিক তরজাও তুঙ্গে। কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বাম এবং বিজেপি। বাম নেতা মনোজ চল বলেন, “পঞ্চায়েতের সদস্যরা কোথায় গ্রামের উন্নয়ন করবেন। সেখানে একজন সদস্যের চরিত্রটা কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে। এরা আবার নাকি মানুষের ভালো করবেন।” অন্যদিকে বিজেপির শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক পিন্টু বেরার কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘তৃণমূলের সংস্কৃতি এমনই। নিজেরাই নিজেদের সমর্থক, পরিবার এমনকি, প্রতিবেশীর উপর অত্যাচার করে।”