প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আবহে গতকাল অর্থাৎ সোমবারই পশ্চিমবঙ্গের SIR মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। এই মামলার অন্তবর্তী রায়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত একাধিক নির্দেশ দিয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, SIR প্রক্রিয়ায় কমিশনের মাইক্রো অবজার্ভারদের বদলে রাজ্যের দেওয়া ৮৫০৫ জন গ্রুপ-বি অফিসারকে আজ থেকেই নিয়োগ করতে হবে। এমনকি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিনও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এমতাবস্থায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Final Voter List) সংক্রান্ত বিষয়ে ফের স্পষ্ট বার্তা দিল CEO দফতর।
পিছিয়ে যাচ্ছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন
রিপোর্ট মোতাবেক গতকাল অর্থাৎ সোমবার, সুপ্রিম কোর্টে SIR সংক্রান্ত মামলা উঠলে কমিশনকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে ১৪ ফেব্রুয়ারির পরে আরও সাতদিন স্ক্রুটিনি চালিয়ে যেতে হবে। ফলে সেক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। কমিশন সূত্রে খবর, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২১ ফেব্রুয়ারির আগে প্রকাশিত হচ্ছে না। চেষ্টা করা হবে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার। আর এই অবস্থায় অনেকের মনে প্রশ্ন জাগছে SIR এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরেও যদি নাম না ওঠে তাহলে কী করণীয়? সেক্ষেত্রে এই বিষয়ে ফের স্পষ্ট বার্তা দিল সিইও দফতর।
চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকলে কী করবেন?
ভোটার লিস্ট থেকে সামান্য ভুলের জন্য যাতে কারও নাম বাদ না যায় সে ব্যাপারে গতকালই কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তাই সেই নির্দেশের ভিত্তিতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল গতকাল অর্থাৎ সোমবার জানিয়েছেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে, কোনও ভোটার DEO-র কাছে ৫ দিনের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। DEO যদি আবেদনের নিষ্পত্তি না করেন, তা হলে সংশ্লিষ্ট ভোটার রাজ্যের CEO-র কাছে পরের ৫ দিনের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। ভোটের আগে নাম তুলতে হলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে ওই আবেদন করতে হবে।
আরও পড়ুন: তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ হুগলিতে, কটাক্ষে বাম-বিজেপি
কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ যাঁরা আগে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেননি, তাঁদের এখন ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হলে নতুন করে আবেদন করতে হবে। সেক্ষেত্রে তাঁদের জন্য থাকবে ফর্ম ৬। সেটির সঙ্গে আরও একটি ফর্ম পূরণ করতে হবে তাঁদের। জানা গিয়েছে, সেখানেও ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যোগসূত্র জানতে চাওয়া হবে। অন্যথায়, তাঁর বাবা, মা, ঠাকুরদা, ঠাকুরমার মধ্যে কোনও এক জনের ২০০২ সালের ভোটার তালিকার তথ্য জানাতে হবে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে এনুমারেশন ফর্মে যে ভাবে তথ্য দিতে বলা হয়েছিল, সেই ভাবেই তথ্য দিতে হবে এ ক্ষেত্রেও।