প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বেশ হুলুস্থুল কাণ্ড শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে। হাতে যেহেতু সময় খুব কম তাই এখন থেকেই ভোট প্রচারের ময়দানে নেমেছে শাসকদল থেকে বিরোধী দলগুলি। জনসংযোগ বৃদ্ধিতে কেউই কোনো রকম খামতি রাখতে চাইছে না। আর এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিল পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিধানসভার মেয়াদ শুরু হচ্ছে আগামী ৭ মে। গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলি সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করেছে কমিশন (Election Commission Of India)।
আধিকারিকদের বদলি নিয়ে বিজ্ঞপ্তি কমিশনের
রিপোর্ট মোতাবেক গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার, নির্বাচন কমিশনের তরফে বিভিন্ন রাজ্যের আধিকারিকদের বদলি সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, “নির্বাচন কমিশন একটি ধারাবাহিক নীতি অনুসরণ করে আসছে যে নির্বাচনী রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোট পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্মকর্তাদের তাঁদের নিজ জেলায় বা যেখানে তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানে রাখা যায় না। তাই এই নিয়ম মেনেই বদলি প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” কমিশন এদিন বিজ্ঞপ্তিতে ভোটমুখী পাঁচ বিধানসভার মেয়াদ শেষের তারিখ ঘোষণা করেছে। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিধানসভার মেয়াদ শুরু হচ্ছে ৭ মে।
মার্চে ঘোষণা হতে পারে ভোটের দিন
নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, তামিলনাড়ুতেও বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১০ মে, অসমে ২০ মে, কেরলে ২৩ মে এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ২৩ মে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে আগামী ৭ মের মধ্যে ভোটপ্রক্রিয়া শেষ করে কমিশনের তরফে অষ্টাদশ বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়কদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এরপর রাজ্যপাল প্রোটেম স্পিকার নিযুক্ত করবেন এবং তাঁর উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষেই চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলে মার্চের প্রথম সপ্তাহেই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিতে পারে কমিশন।
আরও পড়ুন: মোদী সরকারের শ্রমনীতি বিরোধিতায় ভারত বনধ্, পথে নামছেন ৩০ কোটি শ্রমিক
প্রসঙ্গত, গত দু’দশক ধরে একই সঙ্গে তামিলনাড়ু, কেরল, অসম, পুদুচেরি এবং পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট হয়ে আসছে, এবারেও তার ব্যতিক্রম হবে না। আশা করা যাচ্ছে, আগামী এপ্রিল-মে মাসে তামিলনাড়ু, কেরল, অসম, পুদুচেরির সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাই কমিশন জানিয়েছে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব বদলি করতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সরকারকে। এবং ওই দিনই কমিশনকে রিপোর্ট দিতে হবে এই বদলি সংক্রান্ত বিষয়টি জানিয়ে।