পাকিস্তানকে ‘টয়লেট পেপার’-এর মতো ফেলে দিয়েছে আমেরিকা! দাবি পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

Pakistan on America

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তান বরাবরই সম্পর্ক জোরদার করতে করার চেষ্টা করছে। তবে ঠিক সেই আবহে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। পাকিস্তানের সংসদে এদিন তিনি অভিযোগ করলেন, কৌশলগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য আমেরিকা ইসলামাবাদকে ব্যবহার করেছে, আর পরে ‘টয়লেট পেপার’ এর থেকেও খারাপ ভাবে ফেলে দিয়েছে (Pakistan on America)। তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোড় আলোচনা। যদিও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বা মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনওe প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।

সংসদে কী বলেছেন খোয়াজা আসিফ?

বক্তৃতা রাখতে গিয়ে পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এদিন স্পষ্ট বলেন, ১৯৯৯ সালের পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জোট গড়ার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্য দীর্ঘমেয়াদে যে ক্ষতিকর তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান প্রসঙ্গে। তাঁর দাবি, আমেরিকার ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে বারবার এরকম সংঘাতে জড়িয়েছে পাকিস্তান। আর সেখানে তাদের নিজস্ব স্বার্থ ছিল না। এতে দেশের অর্থনীতি একেবারে তলানিতে ঠেকছে এবং শিল্প থেকে শুরু করে কর্মসংস্থানও প্রভাবিত হয়েছে।

খোয়াজা আসিফের বক্তব্যে বিশেষভাবে আফগানিস্তান ইস্যুই গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেন, ৮০ এর দশকে সোভিয়েত বিরোধী আফগান যুদ্ধ মূলত আমেরিকার কৌশলগত স্বার্থে পরিচালিত হয়েছিল। আর সেটিকে জিহাদ আকার দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। এমনকি সেই যুদ্ধে জড়িয়ে পাকিস্তান দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার মুখে পড়েছিল। তাঁর কথায়, অতীতের সেই সিদ্ধান্তগুলোর সামাজিক আর নিরাপত্তা ক্ষতি এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

৯/১১ এ পর জোট বেঁধেছে আমেরিকা-পাকিস্তান

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়ে যায়। সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে আসিফ বলেন, এই জোটের মূল্য পাকিস্তানকে ভয়াবহভাবেই চোকাতে হয়েছে। এই নীতির জন্য তিনি দায়ী করেছেন প্রাক্তন সেনা শাসক জিয়াউল হক এবং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশারফকে। তাঁর অভিযোগ, বহির্বিশ্বের সাথে যুদ্ধ জড়িয়ে পড়ার উন্নয়নের দৌড়ে বন্ধু দেশগুলির তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে পাকিস্তান।

আরও পড়ুন: বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দুটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, কোন কোন রুটে? এখনই দেখুন

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে বদ্ধপরিকর শেহাবাজ শরীফের প্রশাসন। বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে পাক নেতারা। এমনকি ভারত-পাক সংঘর্ষ বিরোধিতায় ট্রাম্পের ভূমিকা সমর্থন করেছিল ইসলামাবাদ। সবথেকে বড় ব্যাপার, ট্রাম্পের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্যতা নিয়ে সুর মিলিয়েছিল পাকিস্তান। আর সেই প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই বড়সড় মন্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক সমীকরণের যে আঘাত হানবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Comment