সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বয়স তাঁর ১০৪ বছর, কিন্তু এখনও জোটেনি বার্ধক্য ভাতা (Old Age Pension)। সাম্প্রতিক বাংলায় ঘটে যাওয়া এহেন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে যখন বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি, লক্ষ্মীর ভান্ডার, বেকার ভাতা সহ আরও অন্যান্য প্রকল্পের জন্য কাড়ি কাড়ি টাকা দেওয়ার ঘোষণা করছে, সেখানে বাংলার বহু বৃদ্ধ বৃদ্ধা ভালো ভাবে বার্ধক্য ভাতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। যার মধ্যে অন্যতম হলেন পূর্ব বর্ধমানের (Purba Bardhaman) জামালপুরের বাসিন্দা শেখ ইব্রাহিম।
১০৪ বছর বয়সেও মিলছে না বার্ধক্য ভাতা!
১০৪ বছর বয়সী জামালপুরের বাসিন্দা শেখ ইব্রাহিমের দাবি, নিয়ম মেনে সবকিছু আবেদন করলেও এখনও অবধি তিনি কোনও টাকা পাননি। অর্থাৎ এই বয়সে এসেও সামান্য কিছু টাকা পাওয়ার হাত থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই ভোটের আগে এহেন ঘটনা সকলকে নাড়িয়ে রেখে দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুব সাথীর পর এদের ৪০০০ টাকা দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার
শেখ ইব্রাহিম এক সময়ে কলকাতার একটি দোকানে কাজ করতাম। হাওড়া ব্রিজ তৈরি হতে দেখেছেন ইনি। তিনি দেখেছেন দেশ স্বাধীন হতে। এমনকি গান্ধীজি যখন ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন সেই সময়েও মিছিলে পা মিলিয়েছিলেন তিনি। এখন সেই মানুষটাই কোনও বার্ধক্য ভাতা পাচ্ছেন না। এর আগেও তিনি শিরোনামে ছিলেন। এসআইআর-এর শুনানিতে তাঁকে এই বয়সেও ভোট কেন্দ্রে যেতে হয়েছিল। সেই নিয়েও কম শোরগোল হয়নি।
কী বলছেন বৃদ্ধ?
টাকা না পেয়ে বৃদ্ধের গলায় হতাশার সুর স্পষ্ট। জামালপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অখ্যাত গ্রাম বত্রিশবিঘার বাসিন্দা শেখ ইব্রাহিমের দাবি অনুযায়ী, ১৩২৯ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসে তাঁর জন্ম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আসার পর থেকে আশায় বুক বেঁধে দু-দুবার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কাজ হয়নি। কাঁপা গলায় বৃদ্ধ সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমাকে বলা হয়েছে আমার বাম হাতের বুড়ো আঙুলের ছাপ নাকি উঠছে না। আমার গ্রামের কতজন ভাতা পাচ্ছে, শুধু আমারই কপালে জুটল না। এটাকেই ভবিতব্য ধরে নিয়েছি।”