আজব ঘটনা! ৩৭ বছর পর কলকাতা পুরসভায় ছেলের জন্মশংসাপত্রের আবেদন দেবী শেট্টীর

Birth Certificate

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন। তাই ভোটের আগে তড়িঘড়ি SIR প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সর্বত্র এসআইআরের শুনানি পর্ব শেষ হয়েছে। দু’একটি জেলার কিছু বিধানসভা অঞ্চলে এখনও শুনানির কাজ চলছে। ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানি শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় ঘটল আরেক ঘটনা। প্রায় ৩৭ বছর পর জনপ্রিয় চিকিৎসক দেবী শেট্টী তাঁর ছেলের জন্য জন্মশংসাপত্রের (Birth Certificate) আবেদন জানাল পুরসভায়।

জন্মশংসাপত্রের আবেদন চিকিৎসক দেবী শেট্টীর

জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার ‘চিফ মেডিক্যাল অফিসার অফ হেল্‌থ’-এর কাছে একটি আবেদনপত্র পাঠান জনপ্রিয় চিকিৎসক দেবী শেট্টী। সেখানে তিনি বলেন, ১৯৮৯ সালে তাঁর স্ত্রী শকুন্তলা শেট্টী চিকিৎসক উৎপল রায়ের তত্ত্বাবধানে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। তাই সেটার জন্মশংসাপত্র পেতে আবেদন জানাচ্ছেন তিনি। এর জন্য স্ত্রীর এবং পুত্রের যাবতীর সরকারি নথি ও তথ্য যুক্ত করে দিয়েছেন। কিন্তু এত বছর পর কী কারণে এই জন্মশংসাপত্র প্রয়োজন পড়ছে তা জানতেই চিকিৎসক বলেন, বর্তমানে তাঁর পুত্র আমেরিকায় রয়েছেন আর সেখানেই এই জন্মশংসাপত্র প্রয়োজন তাই জলদি কলকাতা পুরসভার কাছে তা পেতে লিখিত আবেদন করেন পিতা চিকিৎসক শেট্টি।

জন্মশংসাপত্র নিয়ে তোড়জোড় শুরু পুরসভার

উল্লেখ্য, পুরসভার নিয়ম অনুযায়ী, কোনও বেসরকারি হাসপাতালে সন্তানের জন্ম হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি নির্দিষ্ট ফর্ম বাবা-মাকে দেয়। সেই ফর্ম জমা করার পর পুরসভায় জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হয় এবং পরে ইস্যু করা হয় জন্মশংসাপত্র। কিন্তু সেই সময় চিকিৎসক দেবী শেট্টীর পুত্রের জন্ম নিবন্ধন করা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। তাই আজ বিদেশে সেই তথ্যের প্রয়োজন পড়ায় কলকাতা পুরসভায় ছুটতে হল তাঁকে। যদিও পুরসভায় মঙ্গলবার আবেদনপত্র জমা পড়ার পরেই বিষয়টি নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে চলতি সপ্তাহেই শেট্টী পরিবারের হাতে পুত্রের জন্মশংসাপত্র দেওয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন: NPS থেকে এখন তোলা যাবে ১০০% টাকা, জানুন শর্ত

পুর প্রশাসন সূত্রে খবর, যেহেতু এই ধরনের ঘটনা খুবই বিরল, তার উপর প্রায় ৩৭ বছর পুরোনো জন্মশংসাপত্র, তাই বিশেষ ব্যবস্থায় তৈরি করা হচ্ছে এই জন্মশংসাপত্রটি। যদিও এই ব্যাপারে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই ব্যাপারে এখনো কিছু জানাননি। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সর্বত্র এসআইআরের শুনানি পর্ব শেষ হয়েছে। দু’একটি জেলার কিছু বিধানসভা অঞ্চলে এখনও শুনানির কাজ চলছে। নথি যাচাই করতে গিয়ে একাধিক গরমিল খুঁজে পাচ্ছে কমিশন। তার মধ্যে জন্মশংসাপত্র নিয়েও মিলছে একাধিক ত্রুটি। এই অবস্থায় প্রায় ৩৭ বছর পর জন্মশংসাপত্র নিয়ে এক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment