প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অবশেষে স্থায়ী সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ বাংলাদেশে হতে চলেছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ৩০০ আসনের বাংলাদেশে সংসদ ২৯৯ টি আসনে ভোট হচ্ছে। নির্বাচন চলাকালীনই একাধিক জায়গা থেকে অশান্তির খবর সামনে আসছে। তারই প্রেক্ষিতে এ রাজ্যেও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। কড়া পাহারায় রয়েছে বনগাঁ বসিরহাট (Basirhat) সীমান্ত। অশান্তির আঁচ থেকে সুরক্ষিত রাখতে সীমান্ত রোডে চলছে পুলিশের নাকা চেকিং।
সীমান্তবর্তী এলাকায় পুলিশের নাকা চেকিং
রিপোর্ট মোতাবেক, বাংলাদেশে যখন একদিকে চলছে সাধারণ নির্বাচন। তখনই ফের নতুন করে উত্তেজনা ছড়ালো পদ্মাপাড়ে। দিকে দিকে সাধারণ জনগণের উপর চড়াও হচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। আর সেই আন্দোলন, বিক্ষোভের আঁচ যাতে বাংলার বুকে না পরে সেজন্য তৎপর হয়েছে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী অর্থাৎ BSF। কড়া নজর রাখছে পুলিশ প্রশাসন। বসিরহাট, বাগদা, বনগাঁ, পেট্রাপোল ও গাইঘাটা থানার সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় চলল নাকা চেকিং। হিঙ্গলগঞ্জের লেবুখালির ভেসাল ঘাটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চলল পুলিশি তল্লাশি। বিশেষ করে সমাজমাধ্যমে কোনও রকম গুজব, উসকানিমূলক মন্তব্য নজরে আসলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই সব কিছুতেই কড়া নজর রাখছেন গোয়েন্দারা।
একাধিক জায়গায় চলছে তল্লাশি
BSF-এর তরফে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের আগের দিন অর্থাৎ বুধবার থেকেই বসিরহাটের ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত, পেট্রাপোলে বন্ধ রাখা হয়েছে বাণিজ্য। অন্যদিকে সীমান্ত সংলগ্ন বসিরহাট পুলিশের তরফে জেলাজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। চলছে একাধিক জায়গায় তল্লাশি। বিশেষ করে বাদুড়িয়া থানার লবঙ্গ এলাকা, ন্যাজাট থানার কানমারী, হাসনাবাদ থানার বনবিবি সেতু সংলগ্ন এলাকা ছাড়াও হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালির হেমনগর কোস্টাল ও বসিরহাট থানা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চলছে পুলিশের তল্লাশি। তবে শেষ আপডেট অনুযায়ী এখনও বাংলায় বাংলাদেশের নির্বাচনের কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
আরও পড়ুন: BNP ক্ষমতায় এলেই এক হবে ভারত-বাংলাদেশ, উপকৃত হবে নয়া দিল্লি? মিলল উত্তর
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে এবারের নির্বাচন প্রতিবারের তুলনায় যে সম্পূর্ণ আলাদা সেটা বেশ বোঝা যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল গতবারের নির্বাচনে যে দল নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে, সেই আওয়ামী লীগই নাকি এবার অংশ নিতে পারছে না নির্বাচনে। কারণ বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগকে। এপ্রসঙ্গে যদিও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভোট বয়কট করতে বলেছেন। কিন্তু অনেকের ধারণা প্রাণভয়ে দলের কর্মী-সমর্থকদের একটা অংশ ভোট দিতে যাবে। এখন দেখার পালা এবারের নির্বাচন কতটা ফলপ্রসূ হয়।