চুপিসারে বাণিজ্য চুক্তিপত্রে বদল আমেরিকার! বিতর্কের মাঝেই মুখ খুলল নয়াদিল্লি

India-US Trade

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারত আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহু প্রতিক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (India-US Trade) স্বাক্ষরের আগে আচমকাই তৈরি হল বিতর্ক। অভিযোগ উঠছে, চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের আগেই নাকি চুপিচুপি চুক্তিপত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও শর্তের পরিবর্তন করেছে আমেরিকা! আর এই বিষয়টি সামনে আসতেই কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কিন্তু বিতর্কের মাঝেই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলল নয়াদিল্লি।

স্পষ্ট বার্তা বিদেশ মন্ত্রকের

বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য সংক্রান্ত যে চুক্তি কাঠামো নিয়ে বিবৃতি জারি করা হয়েছিল, তার সমঝোতায় কোনও রকম পরিবর্তন হয়নি। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া আগের মতোই রয়েছে। আর চুক্তিপত্রের সাম্প্রতিক সংশোধন পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে হয়েছে। এমনকি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে দুই দেশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতের দাবি, এখানে একতরফা কোনওরকম পদক্ষেপ নেয়নি আমেরিকা।

উল্লেখ্য, হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট সামনে আসার পর বিতর্কের সূত্রপাত। সেখানে চুক্তির খসড়ায় দুটি পরিবর্তনের কথা উঠে আসে। চুক্তির শব্দ এবং শর্তেই মূলত এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- মূল যুক্তিপত্র লেখা ছিল ভারত আমেরিকা থেকে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য কিনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এই ‘প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ শব্দটিকে বদল করে করা হয় ‘কিনতে ইচ্ছুক’। অর্থাৎ, বাধ্যবাধকতার জায়গা থেকে এবার বিষয়টিকে নরম অবস্থায় আনা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রথম খসড়ায় যে সমস্ত মার্কিন পণ্যের উপর শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের কথা ছিল, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ড্রাইড ডিস্টিলার্স গ্রেইনস, রেড সরগাম, ট্রি নাটস, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, ডাল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন ও স্পিরিটসকিন্তু। তবে সংশোধিত সেই নথিতে নির্দিষ্ট ডাল জাতীয় পণ্যের উল্লেখ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: পার পাবে না কোনও শত্রু দেশ, আরও ১১৪টি রাফালে যুদ্ধবিমানের অনুমোদন কেন্দ্রের

এদিকে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংশোধন ভারতের পক্ষেই সুবিধাজনক। কারণ, ৫০০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনা এখন আর বাধ্যতামূলক নয়। আর কৃষিক্ষেত্রে ডাল জাতীয় পণ্য বাদ দেওয়ার কারণে চাইলে শুল্ক আরোপ বা বজায় রাখা যাবে। এমনকি দেশীয় কৃষি বা বাজার সুরক্ষায় নীতিগত স্বাধীনতা বজায় থাকবে। উল্লেখ করার বিষয়, দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-আমেরিকার মধ্যে শুল্ক সংক্রান্ত টানাপোড়েন চলছে। তাই বিভিন্ন পণ্যের আমদানি শুল্ক, বাজার প্রবেশাধিকার আর কৃষিখাত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছেই। তবে সাম্প্রতিক আলোচনার পর অনেকটাই তা ইতিবাচক হয়েছে। আর সেই প্রেক্ষিতেই দ্রুত চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের দিকে এগিয়েছে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি।

Leave a Comment