বয়স্কদের টার্গেট করে সাইবার জালিয়াতি! নয়া উদ্যোগ কলকাতা পুলিশের

Kolkata Police

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবস্থা এতটাই বড় আকার ধারণ করেছে যে মানুষ বাড়িতে বসেই তুড়ি মেরে কঠিন কাজ সহজেই করে ফেলছে। কিন্তু এই ইন্টারনেটকেই আবার অসাধু কাজে ব্যবহার করে চলেছে প্রতারকরা। ভুয়ো লোন অ্যাপ, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক – এমন নানা ধরনের ঘটনা হামেশাই উঠে আসছে খবরের পাতায়। সাইবার জালিয়াতিতে সবচেয়ে বেশি প্রতারণার ফাঁদে পড়ছে বয়স্ক ব্যক্তিরা। তাই এবার কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) তরফে এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

চালু করা হল হেল্পলাইন নম্বর

প্রায়শই অভিযোগ ওঠে পুলিশ, সাইবার শাখা, সিবিআই বা অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিক সেজে ফোন করে ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, কখনও আবার অন্য উপায়ে গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন করে অ্যাকাউন্ট থেকে হাতানো হচ্ছে টাকা। তাই সেক্ষেত্রে কলকাতা পুলিশ লাগাতার সচেনতা বৃদ্ধির প্রচার শুরু করেছে। শুধু তাই নয় ন্যাশনাল সাইবার অপরাধের অভিযোগ জানাতে চালু করা হল হেল্পলাইন নম্বর। পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার জানিয়েছেন, “সাইবার প্রতারণার শিকার হলে এক মুহূর্ত দেরি না করে 1800-3450066 নম্বরে ফোন করুন। যত দ্রুত জানাবেন, তত দ্রুত পদক্ষেপ করা সম্ভব। এখানে ২৪ ঘণ্টা ফোন করা যাবে।”

সাইবার পাস দেওয়া নিয়ে বড় পদক্ষেপ

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে সাইবার প্রতারণার শিকার হওয়া ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে যদি কলকাতা পুলিশের জারি করা ১৮০০৩৪৫০০৬৬ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চায় তাহলে প্রতারিত হলে কী করনীয়, থানায় যেতে হলে কোথায় যেতে হবে ইত্যাদি নানা বিষয় সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হবে ফোনেই। শুধু হেল্পলাইন নম্বর চালু নয়, সাইবার সচেনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আরও কিছু পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। তাদের তরফে ‘সাইবার পাস’ দেওয়া হবে। আসলে এই প্রতারণার জালে মূলত বয়স্করা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ বা ফোনে কিছু ডাউনলোড করার মাধ্যমে প্রতারিত হন। তাই সেক্ষেত্রে কী করণীয়, আর কী নয়, তা ওই ‘নিউজলেটারে’ থাকবে।

আরও পড়ুন: নিপা ভাইরাস প্রাণ কাড়ল বারাসাতের সেই নার্সের

প্রসঙ্গত, কলকাতা পুলিশের চালু করা এই সাইবার হেল্পলাইনে প্রথম দিনেই ২০০-র বেশি ফোন এসেছে বলে দাবি লালবাজারের। অধিকাংশ অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল অ্যারেস্টের চেষ্টা–সহ বিভিন্ন সাইবার জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, সবথেকে বেশি প্রশ্ন ও অভিযোগ এসেছে মোবাইল বা ডিভাইস হ্যাকিং নিয়ে। আশা করা যাচ্ছে এই পরিষেবা আরও দ্রুত গোটা রাজ্য ছড়িয়ে পড়বে এবং অনলাইন জালিয়াতিকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা যাবে।

Leave a Comment