সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ ১৮ মাস পর অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন (Bangladesh Election)। হাসিনা জামানার পর এই প্রথম নির্বাচন ওপার বাংলায়। রিপোর্ট বলছে, এবার বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধর্মীয় আর জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মোট ৮০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এমনকি তাদের মধ্যে সবথেকে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি। আর ৮০ জন সংখ্যালঘু প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন ছিলেন মহিলা। কিন্তু জয়ী হল কতজন?
কী বলছে সামগ্রিক ফলাফল?
প্রথম আলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, এবার মাগুরা-২ আসন থেকে বিএনপি’র টিকিটে নিতাই রায়চৌধুরী লড়াই করে জয়ী হয়েছেন। তিনি লড়াই করেছিলেন জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর বিরুদ্ধেই। এই আসনে তিনি ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৬৯৬টি ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে লড়াই করা জামাত নেতা মুশতারশেদ বিল্লাহ, যিনি পেয়েছেন ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৯৯৯টি ভোট।
অন্যদিকে মাগুরায় বিএনপি’র হিন্দু প্রার্থী জয়ী হওয়া সত্ত্বেও বাগেরহাটে বিএনপির টিকিট পাওয়া দুই হিন্দু প্রার্থী লড়াই করে জামাত প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছেন। জানা যাচ্ছে, বিএনপির কপিল কৃষ্ণ মন্ডল বাগেরহাট-১ আসন থেকে পরাজিত হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি’র টিকিটে বাগেরহাট-৪ আসন থেকে হেরেছেন সোমনাথ দে। উল্লেখ্য, বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপি’র কপিল কৃষ্ণ মন্ডল ভোট পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৫৯০টি। আর সোমনাথ দে ভোট পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৩২৬টি। অন্যদিকে জামায়াতের মশিউর রহমান পেয়েছেন ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৯৬৬টি ভোট। পাশাপাশি জামাত প্রার্থী আব্দুল আলীম পেয়েছেন ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৭টি ভোট।
আবার ঢাকা-৩ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিএনপি’র টিকেটে জয়লাভ করেছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, ঢাকা-৩ আসনে বিএনপি’র ধানের শিষ প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যিনি ভোট পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৭৮৫টি। তাঁর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর দল। হ্যাঁ, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মহম্মদ শাহিনুর ইসলাম ছিলেন তাঁর বিরুদ্ধে। তিনি ভোট পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২টি। অর্থাৎ, তিনি যে বড় ব্যবধানেই জয়লাভ করেছেন তা পরিসংখ্যানেই যথেষ্ট।
আরও পড়ুন: জাপানে কথা দিয়েছিলেন অভিষেক, এবার বদলে গেল এসপ্ল্যানেডের রাস্তার নাম
সামগ্রিকভাবে এবার ওপার বাংলার নির্বাচনে সবথেকে বেশি হিন্দু প্রার্থী দিয়েছিল কমিউনিস্ট দলগুলি। ১৭ জন প্রার্থী দিয়েছিল তারা। অন্যদিকে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল দিয়েছিল ৬ জন সংখ্যালঘুর টিকিট। যদিও তাদের মধ্যে কেউই জয়লাভ করতে পারেনি। সব মিলিয়ে নির্বাচনে ৮০ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী ছিলেন এবার। যাদের মধ্যে জয়লাভের হার যে খুব একটা আশানুরূপ না তা বলা যায়।