দার্জিলিংয়ের টয় ট্রেনে প্রথম মহিলা TTE, পাহাড়ে তৈরি হল ইতিহাস

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ পাহাড়ের ইতিহাসে যুক্ত হল এক নতুন অধ্যায়ের। ভাঙল পুরুষতান্ত্রিক এক প্রথার দীর্ঘ অধ্যায়। সৌজন্যে এক পাহাড়ি কন্যা। এতদিন দার্জিলিং তথা বাংলার ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনে (Darjeeling Toy Train) টিকিট পরীক্ষকের ভূমিকায় দেখা মিলত পুরুষদের। দার্জিলিংয়ের টয় ট্রেনের ইতিহাস প্রায় ১৪৫ বছরের দীর্ঘ। এই সময়কালের মধ্যে মহিলা টিকিট পরীক্ষক পদের নিয়োগ পাননি একজনও। ২০২৬ সালে এসে ভাঙল সেই প্রথা। টয় ট্রেনের টিকিট পরীক্ষকের (TTE) ভূমিকায় যাত্রীরা এবার থেকে এক মহিলা কর্মীকেও দেখতে পাবেন।

প্রথম মহিলা টিটিই পেল টয় ট্রেন

ইতিহাসের পাতায় নাম তুলেছেন পাহাড়েরই মেয়ে সরিতা ইয়োলমো (Sarita Yolmo)। জন্ম, দার্জিলিংয়ের সোনাদা এলাকায়। ৫৫ বছর বয়সী সরিতার জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে রেলের সঙ্গে। কাজের সূত্রে সোনাদা থেকে চলে এসেছিলেন শিলিগুড়ির দাগাপুরের পঞ্চনই এলাকায়। এরপর এক দীর্ঘ যাত্রা, দীর্ঘ কর্ম জীবন, যার পুরস্কারে মিলল ইতিহাস গড়ার সুযোগ। সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সরিতা রেলের কর্মরত অবস্থায় রাজধানী এক্সপ্রেস, গুয়াহাটি–বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস, অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনে টিকিট পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন সফলভাবে। চাকরি করেছেন নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে চিফ টিকিট কালেক্টর হিসেবেও। তবে, নিজ জন্মভূমির চির পরিচিত টয় ট্রেনে যে কখনও কাজের সুযোগ মিলবে সেটা সরিতা নিজেও হয়তো কল্পনা করতে পারেননি।

পাহাড়ের ইতিহাসে প্রথম

টয় ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক হিসেবে প্রথম দিন একটু নার্ভাস ছিলেন। কারণ টয় ট্রেনে প্রায় নিজেকে একার হাতে সামলাতে হয়, দায়িত্ব অনেক বেশি। তাই প্রথম দিন একটু শঙ্কা না থাকাই হয়তো অস্বাভাবিক। গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত হেরিটেজ টয় ট্রেনের সিনিয়র টিকিট কালেক্টর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন সরিতা।

আরও পড়ুনঃ নতুন আবেদনকারীরা লক্ষীর ভাণ্ডারের টাকা না পেলে কী করবেন? জানুন

যাত্রী ও সহকর্মীদের উচ্ছ্বাস, উৎসাহ চমকে দিয়েছিল তাঁকে। যাত্রীরা এগিয়ে এসে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সরিতাকে। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী মিডিয়াকে জানিয়েছেন, সরিতার এই পদক্ষেপ আগামী দিনে আরো অনেক মহিলাকে উৎসাহিত করবে এই পেশা বেছে নেওয়ার জন্য।

Leave a Comment