বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: হিমালয়ের অন্তর্ভুক্ত তিস্তা বাজার ও মেলি বাজারের (Sevoke-Rangpo Railway) মাঝ বরাবর প্রতিকূল পরিবেশে পাথর-মাটি কেটে অন্তত 4.1 কিলোমিটারের সুদীর্ঘ পথ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে ইতিমধ্যেই। সেই সাথে সম্পন্ন হয়েছে সেবক থেকে রংপো রেল প্রকল্পের চ্যালেঞ্জিং কাজও। একেবারে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে হিমালয়ের গর্ভে কাজ করেছেন শ্রমিকরা। এই প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়াররা বলছেন, ভূগর্ভস্থ এলাকার পাথর এবং মাটি এতটাই নরম অবস্থায় ছিল যে, কোনও ভাবেই এখানে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারেননি তারা। কিন্তু তা সত্বেও সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে বড় কাজ।
গাইতি, বেলচা দিয়ে কাটা হয়েছে পাথর-মাটি
হিমালয় এলাকায় ভূগর্ভস্থ মাটি এবং পাথর এতটাই বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল যে ইঞ্জিনিয়াররা আলাদা করে ঝুঁকি না নিয়ে একেবারে গাইতি, বেলচা দিয়ে ভূগর্ভের দু দিক থেকে পাথর এবং মাটি কেটে তা সরিয়ে সুরঙ্গ পথ তৈরি করেন। এ প্রসঙ্গে প্রকল্পের মুখ্য ডিজাইনার আরমান্দো ক্যাপেলান কমপক্ষে 600 ইঞ্জিনিয়ার এবং কয়েক হাজার কর্মীকে সাথে নিয়ে এই কাজ করেছিলেন। জানা গিয়েছে, দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনির পর শেষ পর্যন্ত দুই প্রান্তে পি1 এবং পি2 মিলে যায়। তাতে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন কর্মীরা।
প্রকল্পের কাজ ছিল যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং
সেবক-রংপো রেলওয়ে প্রকল্পের কাজ পেয়েছিল ইরকন। এই সংস্থার প্রজেক্ট অ্যাডভাইজার মহিন্দর সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে দিয়ে এখানে সুরঙ্গ করার কাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। নরম মাটিতে ডেনামাইট বিস্ফোরণ করানো যায়নি। তাই পুরনো খনন পদ্ধতিকে কাজে লাগাতে হয়েছে। কঠিন সময়ে কর্মীরা ধৈর্য ধরে কাজ করেছেন।
প্রজেক্ট অ্যাডভাইজার মহিন্দর সিং আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ এবং সিকিমের মধ্যে সংযোগকারী 44.98 কিলোমিটার দীর্ঘ রেল প্রকল্পটি এই মুহূর্তে চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। এর মধ্যে মাত্র 3.5 কিলোমিটার অংশ সিকিমে রয়েছে। এছাড়া বাকি 41.5 কিলোমিটার অংশ রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। ওই ব্যক্তির দাবি, এই প্রকল্পের অন্তত 85 শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। এই বিশেষ রেল প্রকল্পের অধীনে কী কী থাকছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, এই রেল প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে 22টি নতুন সেতু, 14টি টানেল, এছাড়াও সেবক, রিয়াং, তিস্তা বাজার, মেলি সহ মোট 5টি স্টেশন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, 22টি সেতুর মধ্যে ইতিমধ্যেই 19টি সেতুর কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। বাকি সেতু এবং স্টেশন গুলির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে আগামী নভেম্বরের মধ্যে। রেল সূত্রে খবর, 14 টানেলের মধ্যে 8 নম্বর টানেলের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি একটি টানেলের কাজ চলছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের একাধিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, 44.98 কিলোমিটার লাইনের বেশিরভাগ টানেলের কাজ শেষ করে ফেলেছেন তারা। জানা যাচ্ছে, সব ঠিক থাকলে এবং সময়মতো কাজ হলে 2027 সালের ডিসেম্বরের মধ্যে গোটা প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যাবে।
অবশ্যই পড়ুন: ১ এপ্রিল থেকেই বেড়ে যাচ্ছে বার্ষিক টোল পাসের দাম, কত খরচ হবে জানুন
প্রসঙ্গত, সরকারি সূত্র মারফত খবর, সেবক থেকে রংপো রেল প্রকল্পের যে কাজ চলছে তা শেষ হলে ট্রেনে করে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সেবক থেকে রংপো পৌঁছে যাবেন যাত্রীরা। যেখানে সড়কপথে এই যাত্রাপথ অতিক্রম করতে সময় লাগে 5 ঘন্টা বা তারও বেশি। বলে রাখি, এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে 11 হাজার 973 কোটি টাকা।