বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: শনিবার, বাংলায় গঠিত হলো নতুন সরকার। ঠিক সেই আবহে কলকাতা-বারাণসী এক্সপ্রেসওয়ে (𝗞𝗼𝗹𝗸𝗮𝘁𝗮-𝗩𝗮𝗿𝗮𝗻𝗮𝘀𝗶 𝗘𝘅𝗽𝗿𝗲𝘀𝘀𝘄𝗮𝘆) নিয়ে এল বড় আপডেট। জানা গিয়েছে, দুই বড় শহর কলকাতা এবং বারাণসীকে সংযোগকারী এই 235 কিলোমিটার দীর্ঘ গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের জন্য ছাড়পত্র দেওয়ার সুপারিশ করেছে পরিবেশ মন্ত্রকের একটি প্যানেল।
কলকাতা-বারাণসী এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে নয়া আপডেট
ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার একটি সূত্র কিছুদিন আগেই জানিয়েছিল, কলকাতা-বারাণসী এক্সপ্রেসওয়েতে বন্যপ্রাণ রক্ষায় তৈরি হচ্ছে এলিভেটেড করিডোর। জানা গিয়েছিল, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার বনাঞ্চলের মধ্যে দিয়ে কলকাতা-বারাণসী এক্সপ্রেসওয়ের যে অংশ যাবে সেখানে মোট 10 কিলোমিটার এলিভেটেড করিডোর তৈরি করা হবে। এই এলিভেটেড করিডোর তৈরি করার একমাত্র লক্ষ্য, বন্যপ্রাণ বাঁচানো। অর্থাৎ এর ফলে গাড়ির গতি কমাতে হবে না বরং গাড়িগুলি একটি নির্দিষ্ট এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ছুটবে। অন্যদিকে বন্যপ্রাণীরা তাঁদের নিজেদের মতো করে স্বচ্ছন্দে ঘুরে বেড়াতে পারবে।
সূত্রের খবর, তিন জেলা মিলিয়ে মোট 30 কিলোমিটার পর্যন্ত এলিভেটেড করিডোর তৈরির পরিকল্পনা ছিল সরকারের। যদিও এই এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি নিয়ে ভারতীয় বন মন্ত্রকের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় ছিলেন কর্মীরা। এমতাবস্থায় সম্প্রতি, ভারতীয় বনমন্ত্রকের এক বিশেষ প্যানেল কলকাতা ও বারাণসীকে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ এক্সপ্রেসওয়ের জন্য মন্ত্রকের কাছে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার সুপারিশ করল। কয়েকটি রিপোর্ট বলছে, এই এক্সপ্রেসওয়েকে পূর্ণরূপ দিতে পশ্চিমবঙ্গের 103 হেক্টরের বেশি সংরক্ষিত ও সুরক্ষিত বনভূমি অন্যত্র সরাতে হতে পারে।
অবশ্যই পড়ুন: দেশের এই শহরে বন্ধ হবে পেট্রোলচালিত বাইক বিক্রি! কবে থেকে?
একটি সরকারি সূত্রের দাবি, চার থেকে ছয় লেনের এই গুরুত্বপূর্ণ এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি করতে অরণ্যবিহীন এলাকায় 40,000 এবং বনভূমি এলাকায় 10,000 এর কাছাকাছি গাছ কাটার প্রয়োজন পড়বে। একই সাথে বন্যপ্রাণ রক্ষার্থে 20টি হাতি এবং বন্যপ্রাণীদের জন্য আন্ডারপাস নির্মাণের প্রস্তাব পেশ করেছে NHAI। বলাই বাহুল্য, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি এবং হাওড়ার মধ্যে দিয়ে যাওয়া এই এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি করতে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া অর্থাৎ ভারত সরকারের খরচ হচ্ছে 9,250 কোটি টাকা।।