প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শুধু বিধানসভা নয়, এবার লোকসভাতেও (Lok Sabha) ভাঙতে চলেছে তৃণমূলের (All India Trinamool Congress) সংগঠন! জানা যাচ্ছে, আগামী সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কয়েকজন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ। ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের একমাসের মধ্যেই বিপুল পরিবর্তন দেখা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) দলের। শাসকদলের তকমা সরতেই অন্তর্দ্বন্দ্ব যেন ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসতে চলেছে। এবার বিধানসভায় দলের একাংশ আলাদা হওয়ার পরেই অন্ধকারের ছায়া পড়ল লোকসভায়।
প্রশ্নের মুখে এবার লোকসভা
ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতা বিধায়কদের বৈঠক ডাকলেও সেখানে হাতেগোনা কয়েকজন হাজির হতেন। কিন্তু সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা চিঠির সই সংক্রান্ত বিতর্ক প্রকাশ্যে আসতেই এক লহমায় পরিস্থিতি বদলে যায়। বিধানসভায় আলাদা হয়ে যান তৃণমূলের বিধায়কেরা। শেষে বিদ্রোহী বিধায়কদের চিঠিতে অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বোসের স্বীকৃতি মেলার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই হলেন বিরোধী দলনেতা। আর এবার প্রশ্নের মুখে লোকসভা।
চিঠি দেওয়া হবে স্পিকারের কাছে
জানা গিয়েছে, ‘নব তৃণমূল ব্লক’ এবার লোকসভায় আসন দখলের লড়াইয়ে নেমেছে। আর সেই ‘বিক্ষুব্ধ’ তৃণমূল সাংসদদের নেতৃত্বেই নাকি রয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সূত্রের খবর, আগামী সোমবার, ৮ জুন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি চিঠি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কয়েকজন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পাশাপাশি তালিকায় নাম উঠে আসছে পার্থ ভৌমিক, অসিত মাল, ইউসুফ পাঠান, জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া সহ বেশ কয়েকজন সেলিব্রিটি সাংসদ। এদিকে ওই দিনই দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
আরও পড়ুন: রাজ্যের সব মাদ্রাসা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সরকারের! পূর্ণাঙ্গ তথ্যের রিপোর্ট চাইল নবান্ন
প্রসঙ্গত, এতদিন যাঁরা মমতার গুরুত্বপূর্ণ সৈনিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাঁরাই তৃণমূল সুপ্রিমোর হাত ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন। রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ও এই বিষয়ে সরব হয়েছেন। সবমিলিয়ে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সংখ্যাটা ১৮ জন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, তাঁরা স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি দেওয়ার আগে বৈঠক করবেন। সেখানে লোকসভায় তৃণমূলের নতুন ব্লকের নেতা কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। যদিও এই বিষয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, লোকসভার সাংসদদের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেননি। ফলে সোমবার আদতে ঠিক কী হতে চলেছে তাই নিয়ে ধোঁয়াশা বাড়ছে।