প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাংলার ক্ষমতার পালাবদল হতেই ভেঙে চুরমার তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress)। বিরোধীদের সামনেই এবার দলের অন্দরের কোন্দল খোলাখুলি নিজেরাই সামনে নিয়ে আসছে নেতৃত্ব। বিধানসভার পাশাপাশি লোকসভাতেও ভাঙন স্পষ্ট। দীর্ঘ আলোচনার পর রবিবার, ত্রিপুরার NCPI দলে যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী ২০ সাংসদ (TMC Rebel MPs)। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার বাসভবনে আলোচনার পর এ কথা ঘোষণা করেন তাঁরা। এদিকে এ-হেন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই খবরের শিরোনামে উঠে এল অন্ধ্রপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ চিন্তাকুন্টা মুনুস্বামী রমেশের (C M Ramesh) নাম। তিনিই নাকি তৃণমূল ভাঙনের মূল কাণ্ডারি।
NCPI-তে যোগ তৃণমূলের ২০ সাংসদের
বিগত কয়েকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল যে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা এবার বিজেপির নেতৃত্বাধীন NDA-র শরিক হতে চাইছে, কিন্তু পরে আবার শোনা যায় যে তাঁরা NDA-তে সরাসরি যোগ দিতে পারবেন না কারণ রয়েছে একাধিক আইনি জটিলতা। তাই দীর্ঘ আলোচনার পর NCPI তে যোগ দিলেন ২০ সাংসদ। বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA শিবিরের সঙ্গে বন্ধুপূর্ণ সম্পর্ক দলটির। এই প্রসঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা NCPI-তে যোগ দিয়েছি। এটা নির্বাচন কমিশন স্বীকৃত রাজনৈতিক দল। আমরা এই দলের সঙ্গে মিশে যাচ্ছি। আগামী দিনে আদালতে ফয়সলা হবে কে আসল তৃণমূল।”
তৃণমূল ভাঙনের পিছনে কে দায়ী?
কাকলি ঘোষ দস্তিদারও জানান, আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এনডিএ জোটের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করব।’’ এদিকে তৃণমূল সাংসদদের এই মনোভাব পরিবর্তনের পিছনে নাম উঠে আসছে টিডিপি-ত্যাগী বিজেপি সাংসদ চিন্তাকুন্টা মুনুস্বামী রমেশের। তিনিই নাকি তৃণমূল সাংসদদের ফোন করে চিন্তাধারা বদল করেছিলেন। এদিকে এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই যোগাযোগ করা হয় বছর ৬১-র রমেশের সঙ্গে। পরে যদিও তিনিও সে কথা অস্বীকার করেননি। গণমাধ্যমে তিনি জানান, ‘‘কাউকে রাজি করানোর একটা সহজাত দক্ষতা রয়েছে আমার। মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় পেলেই সেটা করতে পারি।”
আরও পড়ুন: টাকা জমার রশিদ না থাকলে মিলবে না মাধ্যমিক পরীক্ষার সংশোধিত ফল, জানিয়ে দিল পর্ষদ
কটাক্ষ মহুয়ার
সাংসদ রমেশ জানান যে, “ তৃণমূলের প্রায় সমস্ত সাংসদকে অনেক দিন ধরে চিনি। সংসদের ক্যান্টিনে তাঁদের সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়। তাঁদের অনেকের সঙ্গেই বেশ বন্ধুত্ব রয়েছে।’’ আর তাই কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। মহুয়া জানান, “রমেশ আমার বন্ধু। আমি ওঁকে পছন্দ করি। উনি দ্বিতীয় গোত্রের মানুষ। বিজেপির কাছে নিজের গুরুত্ব বাড়াতে এ সব করছেন তিনি।” যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, তৃণমূলের সংসদীয় দলে ফাটল ধরানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব।