সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই আশার আলো দেখছে সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ফের দরজা খুলল উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলের (Jagaddal) জুট মিলের। বুধবার থেকে উৎপাদন শুরু হতেই মিল চত্বরে একেবারে খুশির হাওয়া বইছে। বহুদিন পর কাজ ফিরে পেয়ে আনন্দে মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন শ্রমিকরা। এমনকি মিল পুনরায় চালু হওয়ার কারণে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিকের পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
খুশির হাওয়া জগদ্দলে
জানিয়ে রাখি, গত বছরের শেষ দিকে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই জুট মিলটি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগে ছিলেন শ্রমিকরা। কর্মসংস্থান হারিয়ে অনেক পরিবার সংকটের মুখে পড়েছিল। অবশেষে শ্রম দফতরের উদ্যোগে মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হয় এবং গোটা বিষয়ের নেতৃত্ব দেন শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার কলকাতা নিউ সেক্রেটারিয়েটে শ্রম দফতরের উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আর সেখানে উপস্থিত ছিলেন অর্জুন সিং, প্রতিমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য, মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সদস্য ও শ্রম কমিশনারেট আধিকারিকরা।
বৈঠকে দীর্ঘ সময় ধরেই মিল সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এমনকি শ্রমিকদের বকেয়া, উৎপাদন পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মত বিনিময়ের পর সর্বসম্মতিক্রমেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার থেকেই পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়েছে ওই মিলে।
এদিকে মিল খুলে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তে শ্রমিকদের মধ্যে দেখা যায় উচ্ছ্বাস। অনেকেই জানান, গত কয়েক মাস ধরে কাজ না থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। এক শ্রমিকের কথায়, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পরিবার নিয়ে সমস্যার মধ্যে পড়েছিলাম। নিয়মিত আয়ের কোনও রাস্তা ছিল না। আবার কাজ শুরু হওয়ার কারণে নতুন করে বাঁচার আশা পেলাম। আমরা চাই মিলটি দীর্ঘদিন ধরেই চলুক। এতে হাজার হাজার পরিবারের রুটিরুজি জড়িয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘DA দেয়নি অথচ …’ স্মার্ট মিটার সহ নানান ইস্যুতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গর্জন কর্মীদের
এদিকে শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, জুটশিল্প বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। এই শিল্পকে পুনরুদ্ধ করার জন্য সরকার দীর্ঘ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রমিক এবং মালিকপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ে ঘটিয়ে বন্ধ মিলকে পুনরায় চালু করা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে জুট শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।