ভারতের এক সিদ্ধান্তে নেপালের ৮৩টি চা কারখানায় ঝুলল তালা, হঠাৎ হল কী?

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ আচমকা ভারতের (India) বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠল নেপাল (Nepal)। একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ভারতের বিরুদ্ধে বেজায় চটলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। আসলে যত সময় এগোচ্ছে ততই নেপালের চা খাত সমস্যার মুখে পড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুতর সংকটের সম্মুখীন হয়েছে দেশটি। ঠিক যখন উৎপাদনের ভরা মৌসুম পুরোদমে জমে উঠছে, তখনই পূর্বাঞ্চলের পাহাড় ও সমতলভূমি জুড়ে কারখানাগুলো তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

নেপালে বন্ধ ৮৩টি চা কারখানা

রিপোর্ট অনুযায়ী, সে দেশের শিল্প প্রতিনিধিরা সতর্ক করেছেন যে, অবিলম্বে কোনো সমাধান না পাওয়া গেলে কয়েকশো কোটি টাকার চা অপ্রক্রিয়াজাত থেকে যেতে পারে, যার ফলে কৃষকদের তাদের ফসল ক্ষেতেই নষ্ট হতে দেখতে হবে। বৃহস্পতিবার থেকে ঝাপার ৩০টি চা কারখানা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগে ইলামের ৫৩টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সারাদেশে মোট বন্ধ চা শিল্পের সংখ্যা ৮৩-তে পৌঁছেছে। এই সংকট ১ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক এবং তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের সরাসরি প্রভাবিত করেছে। জানলে অবাক হবেন, শুধু ঝাপাতেই চা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ৬০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক এখন তাঁদের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। আর এই ঘটনার পেছনের ভারতের হাত রয়েছে। নিশ্চয়ই ভাবছেন কীভাবে?

ভারতের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু

সেক্ষেত্রে জানিয়ে রাখি, এই বন্ধের তাৎক্ষণিক কারণ হলো ভারতে নেপালের চা রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটা, যা নেপালি চায়ের প্রধান বাজার। এদিকে ভারতের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। রাস্তায় নেমে চলছে প্রতিবাদ। চা উৎপাদনকারীরা বলছেন, ভারত ২০২৬ সাল থেকে একটি নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) বাস্তবায়ন শুরু করেছে, যার অধীনে দেশে প্রবেশকারী প্রতিটি চায়ের চালান আলাদাভাবে পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। শিল্প খাতের কর্মকর্তারা যুক্তি দিচ্ছেন যে, ল্যাবরেটরির রিপোর্ট পেতে ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, যার ফলে চা বহনকারী ট্রাকগুলো সীমান্ত পয়েন্টে আটকে পড়ে থাকছে।

আর পড়ুনঃ ক্রমেই গরম হচ্ছে গঙ্গার জল, লু-তাপপ্রবাহর আশঙ্কা! গবেষণায় চাঞ্চল্য

এই দেরির কারণে রপ্তানিকারকদের খরচ বেড়েছে এবং ভারতীয় ক্রেতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যাদের অনেকেই বর্তমান ব্যবস্থায় নেপালি চা কিনতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। নেপালের শিল্প মন্ত্রকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, বালেন শাহ সরকার (Balen Shah Government) এই সমস্যা সমাধানের জন্য একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। এই টাস্ক ফোর্সে কৃষি ও শিল্প মন্ত্রক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রী পরিষদ এবং খাদ্য প্রযুক্তি ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। টাস্ক ফোর্সটি শুক্রবার বৈঠকে বসবে।

Leave a Comment