কলকাতার কাছেই ‘সাতশ পাহাড়ের দেশ’ থেকে, ঘুরে আসুন বর্ষায়

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ অনেক তো হল পাহাড়, এবার এই বর্ষায় ঘুরে আসুন ভারতের অন্যতম গভীর জঙ্গল থেকে। এমন এক জঙ্গল যেখানে দিনের বেলাতেও সূর্যের আলো সঠিকভাবে পৌঁছায় না। এতটাই গভীর জঙ্গল যে ঠিক মতো রুট ম্যাপ না জানলে আপনি এখানে অনায়াসেই হারিয়ে যেতে পারেন। আজ কথা হচ্ছে সারান্ডার জঙ্গল নিয়ে। ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) পশ্চিম সিংভূম জেলা জুড়ে বিস্তৃত সারান্ডা বন (Saranda forest) শুধু কয়েকটি গাছের বাগান নয়। এটি ভারতের আমাজন নামে পরিচিত এক রহস্যময় জায়গা। সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে বুদ্ধদেব গুহ-র বইতে আপনি এই সারান্ডার জঙ্গলের উল্লেখ দেখতে পাবেন।

ঘুরে আসুন ‘সাতশ পাহাড়ের দেশ’ থেকে

‘সারান্ডা’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো ‘সাতশ পাহাড়ের দেশ’। প্রায় ৯০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলটি এশিয়ার বৃহত্তম শালবন। এর ঘনত্ব এতটাই বেশি যে, বনের অনেক অংশে সূর্যের আলো মাটিতে পৌঁছাতে পারে না। দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন বৃষ্টিপ্রধান অরণ্য যেমন পৃথিবীর ফুসফুস হিসেবে কাজ করে, তেমনি এই ঘন সারান্ডা বন পূর্ব ভারতের জন্য একটি জীবনরেখা বলা চলে। সারান্ডার সৌন্দর্য যেমন মনোমুগ্ধকর, এর বিপদগুলোও ততটাই বাস্তব।

আরও পড়ুনঃ ফুঁসছে নিম্নচাপ অক্ষরেখা, দক্ষিণবঙ্গের ৫ জেলায় সতর্কতা, আজকের আবহাওয়া

এখানকার পাহাড় ও উপত্যকাগুলো এতটাই জটিল যে, স্থানীয় পথপ্রদর্শক ছাড়া এর ভেতরে প্রবেশ করা মৃত্যুর সমান। ঘন শাল গাছের মধ্যে দিকভ্রান্ত হওয়া খুবই সহজ। এই বন শালবনের কচ্ছপ, চার শিংওয়ালা হরিণ এবং এশীয় তাল খাটাশের মতো বিরল প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল। এখানে কয়েকশো হাতির পাল বাস করে। হাতির চলাচলের পথ হওয়ায় এখানে প্রায়শই মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে হিংস্র সংঘাতের খবর পাওয়া যায়। এছাড়াও, উড়ন্ত টিকটিকির মতো বিরল ও বিষাক্ত প্রাণীও এই বাস্তুতন্ত্রের অংশ। ঐতিহাসিকভাবে, দুর্গমতার কারণে এই এলাকাটি নকশালদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল। এখানকার ঘন জঙ্গল ও গুহাগুলো নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য অভিযান পরিচালনায় বরাবরই একটি বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।

কীভাবে যাবেন?

এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন এরকম জঙ্গলে কীভাবে পৌঁছাবেন? সেক্ষেত্রে হাওড়া থেকে ট্রেন ধরে বার্বিল স্টেশন পৌঁছাতে হবে। এরপর একটি গাড়ি ভাড়া করে সারাটাদিন সারান্ডার জঙ্গলে ঘুরতে পারেন, সে এক আলাদাই অভিজ্ঞতা উপভোগ করবেন।

Leave a Comment