প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দুর্নীতির ঝঞ্ঝাট থেকে বাঁচতে এবার পালাতে চাইছেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)? বিদেশ যাত্রায় যাতে কোনো বাঁধা না আসে এবার তার জন্য আদালতের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন দলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক! নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই কার্যত কোণঠাসা মমতা শিবির। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, বিধায়ক এবং সাংসদরাও সঙ্গ ছাড়ছেন। দলের অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্তির পথে। এই আবহে মূলত চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চাইছেন সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেকের বিরুদ্ধে উঠছে একাধিক অভিযোগ
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পর দলও কার্যত দু’টুকরো হয়ে গিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করে বিধানসভায় নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিয়ে ‘আসল’ বিরোধী দলের তকমা ছিনিয়ে নিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। শুধু তাই নয়, বিধায়ক, সাংসদ এবং নেতা মন্ত্রীরা অভিষেকের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ করে চলেছে। এদিকে এই ভরাডুবির মাঝে চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আদালতের দ্বারস্থ অভিষেক
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর এজলাসে চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় এক সপ্তাহের জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। আসলে অভিষেকের বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে এমনিতে কোনও বাধা নেই। তবে একাধিক বিচারাধীন মামলায় তাঁর নাম যেহেতু জড়িয়ে রয়েছে এবং সেগুলির ক্ষেত্রে তদন্তে সহযোগিতা করতে বলেছে আদালত। তাই এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই আদালতের অনুমতি প্রয়োজন। আগামিকাল মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। জানা গিয়েছে, আজ সেই মামলার শুনানি হবে।
আরও পড়ুন: কালীঘাটে এবার প্রতি দিন জনতার দরবার, কর্মীদের অভিযোগ শুনবেন খোদ মমতা
প্রসঙ্গত, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই একের পর এক মামলায় জড়িয়ে যাচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা থেকে শুরু করে বিধায়কদের সই জাল নিয়ে ইতিমধ্যেই ED ও CID-র ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে। আর এই অবস্থায় তাঁর পিছনে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সি ‘আদা জল খেয়ে’ লেগে পড়েছে বলে বারবার দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাই সব মিলিয়ে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেওয়া বেশ জরুরি, তাই এখন দেখার বিচারপতি অভিষেকের বিদেশ যাত্রায় সবুজ সংকেত দেন কিনা।