অনন্যা সরকার, দিঘা: উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স বললেই যেমন আমাদের মনে আসে উঁচু উঁচু শাল-সেগুনের ঘন বন। সেরকমই দক্ষিণের দিঘা (Digha) কল্পনা করলে এখনো চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঝাউ বনের (Jhau Forest) আলো ছায়ায় ঢাকা সমুদ্র সৈকত। যদিও গত বেশকিছু বছরে হারিয়ে যেতে বসেছে এই দৃশ্য। তবে এবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বনদপ্তরের (Forest Department) উদ্যোগে পুনরায় ফিরে আসতে পারে দিঘার সেই চিরচেনা সৌন্দর্য। রাজ্যের প্রশাসন দিঘার হারিয়ে যেতে বসে ঝাউবন ও ম্যানগ্রোভকে আবার ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। ইতিমধ্যেই বনদপ্তরের তরফে শুরু হয়ে গিয়েছে দিঘার উপকূলে ম্যানগ্রোভ বসানোর জন্য জমি সন্ধানের কাজ।
দিঘা আবার ফিরে পাবে হারিয়ে যাওয়া ঝাউ বন
বছরকুড়ি আগেও দৃশ্যটা অন্যরকম ছিল। দিঘা, মন্দারমনি বা তাজপুরের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি ঝাউবনও ছিল পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। কিন্তু গত ১০-১৫ বছরে দিঘার এই পরিচিত চিত্রটা অনেকটাই পাল্টে গেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন পরিবেশবিদ থেকে সাধারণ পর্যটকেরা। যে ঝাউবনের সৌন্দর্যের জন্য বারবার দিঘায় ছুটে যেতে মন চাইতো, সেই ঝাউবনই আজ উধাও হয়ে গেছে।
সৈকতের ধারে ভাঙাচোরা রাস্তায় এখন বসেছে মার্বেল, পাথর বসানো গার্ডওয়াল। জায়গা দখল করে নিয়েছে পার্ক, সুসজ্জিত হোটেল আর দোকানঘর। আধুনিকতা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে দিঘার ঐতিহ্যবাহী ঝাউয়ের জঙ্গল। তবে বনদপ্তর জানিয়েছে, শীঘ্রই শুধু দীঘা নয়, সমগ্র সৈকত জুড়েই কেয়া, ঝাউ ও সমুদ্র কলমির মতো উপকূলীয় উদ্ভিদগুলি ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট ১,৭০০ একর বনভূমি রয়েছে, যার মধ্যে দিঘার বনদপ্তরের অধীনে আছে ৩০০ একর। বাকি বনভূমি দিঘা শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের অধীনস্থ। বনদপ্তর ইতিমধ্যেই পুরনো গাছের পাশাপাশি নতুন ঝাউ গাছ লাগানো শুরু করেছে। পাশাপাশি জুনপুট, খেজুরি ও দিঘার কিছু অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বসানোর কাজও চলছে।