৪৪০ কোটির তহবিল পাবে মমতা না ঋতব্রতর তৃণমূল? বড় নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: তৃণমূলের (Trinamool Congress) তহবিল কার? এমন প্রশ্নেই এবার জল গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। ছাব্বিশের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের ভরাডুবির পরই তৃণমূলের অন্দরে দেখা দেয় ভাঙন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে 60 এর বেশি বিধায়ক সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা যোগদান করেন নতুন তৃণমূলে। ওদিকে মমতার সঙ্গ না ছাড়া কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্রেরা পড়ে রইলেন কালীঘাট তৃণমূলে। এবার এই দুই তৃণমূলের মধ্যে দলের তহবিল কার দখলে যাবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সমস্যা। আর সেই সমস্যার সমাধানে সঠিক বিচার পেতে এবার কলকাতা হাইকোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল।

তহবিল বাঁচাতে হাইকোর্টে কালীঘাট তৃণমূল

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নতুন তৃণমূলের চেয়ারম্যান করা হয়েছে অরূপ রায়কে। এদিকে সম্প্রতি দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কথা উল্লেখ করে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন রাখেন প্রাক্তন কোষাধক্ষ্য অরূপ বিশ্বাস। মূলত ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে ওই অ্যাকাউন্ট আপাতত বন্ধ করার অনুরোধ করেছিলেন অরূপ। পরে একইভাবে মমতার তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবি জানান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়েরা।

জানা গিয়েছে, দু তরফে তহবিল নিয়ে অভিযোগের পর পদক্ষেপ করেছিল পুলিশ। ব্যাঙ্ককে আপাতত লেনদেন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সাথে আগের লেনদেনগুলির তথ্যও তলব করা হয়। এর আগে অবশ্য অরূপ বিশ্বাস জানিয়েছিলেন, তাঁকে না জানিয়েই একাধিক চেকে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই সব অর্থ কোথায় ব্যবহৃত হয়েছে তার প্রমাণ দেওয়া হোক। এবার সেই ঘটনায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল কালীঘাট তৃণমূল।

অবশ্যই পড়ুন: ক্রিকেট ছেড়ে এবার টেনিসের ময়দানে নামবেন বিরাট কোহলি? চাইছেন তিনি!

মমতার দলের পক্ষ থেকে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন পোড় খাওয়া আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। পরবর্তীতে সেই আবেদনে সারা দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, সমস্ত পক্ষকে নোটিস দিতে হবে। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে অবশ্য জরুরী ভিত্তিতে এই মামলার শুনানির আবেদন জানানো হয়েছে। তবে আদালত জানিয়েছে, সমস্ত পক্ষকে নোটিস দেওয়ার পর আগামী সোমবার অথবা মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হতে পারে। বলে রাখা প্রয়োজন, তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে এই মুহূর্তে 440 কোটি টাকার জমা রয়েছে। যার মধ্যে এআইটিসির অ্যাকাউন্টে 260 কোটি টাকা এবং ত্রিপুরা ও গোয়ার অ্যাকাউন্টে রয়েছে 180 কোটি টাকা।

Leave a Comment