সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আরও বিপাকে পড়ল কালীঘাট তৃণমূল (Trinamool Congress)। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ নিয়ে এমনিতেই জলঘোলা রাজ্যের বিরোধী শিবিরে। সেই ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলি খোলার অনুরোধ জানিয়ে হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। তবে সেখানেই ধাক্কা খেল তৃণমূল। হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে থাকবে। এমনকি আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে লিখিতভাবে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ নিয়ে ধাক্কা তৃণমূল শিবিরে
আসলে বৃহস্পতিবার তৃণমূলের তরফ থেকে করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলার শুনানি ছিল। সেখানে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া নিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই হলফনামা জমা দিতে বলেছেন। এমনকি তা আগামী মঙ্গলবারের মধ্যেই। পাশাপাশি এই বিষয়ে তদন্ত কতদূর এগিয়েছে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে পুলিশের কাছ থেকেও। কালীঘাট তৃণমূলের তরফ থেকে দায়ের করা মামলা খারিজ করে এমনটাই জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি।
আসলে এবার নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে একেবারে ভেঙে খান খান তৃণমূল কংগ্রেস। সেই মতো দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করার দাবি জানান। এমনকি এ বিষয়ে তিনি ব্যাঙ্ককে চিঠিও পাঠান। বিধাননগর সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করে তাঁর দাবি ছিল, সাইবার প্রতারণার টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-এ প্রবেশ করছে। তার মধ্যে তৃণমূলের কিছু অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে। এর পরপরই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আদেশ দেয় পুলিশ এবং ব্যাঙ্ক সেই দাবি মেনেও নেয়। সেই সূত্র ধরেই হাইকোর্টের দারস্ত হয় কালীঘাট তৃণমূল।
তাদের দাবি ছিল, ওই অ্যাকাউন্ট তিনটি থেকেই তারা কর্মচারীদের বেতন দেন। এমনকি অফিসের খরচ থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই আসে। শুধুমাত্র একটি অভিযোগের ভিত্তিতেই অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করা হয়েছে বলে দাবি কালিঘাট তৃণমূলের। তাদের আরও বক্তব্য, শুধুমাত্র পুলিশের পদক্ষেপের ভিত্তিতেই ফ্রিজ করা হয়েছে অ্যাকাউন্ট। এমনকি মামলার প্রথমে তিনটি অ্যাকাউন্টের কথা বললেও আজ শুনানিতে কালীঘাট তৃণমূলের তরফ থেকে ৮টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে বলেই দাবি করা হয়।
আরও পড়ুন: শ্রাবণী মেলায় হাওড়া থেকে স্পেশাল ট্রেন, রুট ও সময়সূচি জানাল পূর্ব রেল
এমনকি কালীঘাট তৃণমূলের আরও বক্তব্য, ভোটের পর থেকে বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের পিছনেও সেই ধরনের কারণ রয়েছে বলেই দাবি তাদের। এমনকি আদালত যাতে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় সেই আবেদন জানানো হয়। তবে সমস্ত পক্ষের দাবি শুনে বিচারপতি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বক্তব্যও জানতে চায় আদালত। পাশাপাশি আগামী মঙ্গলবারের মধ্যেই তা হলফনামা আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশের রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে সেই সঙ্গে। জানা গিয়েছে, আগামী বুধবার ফের এই মামলার শুনানি হতে পারে।
gfenxqyekqnjymxqnodznjgwmjqpgq