নিউটাউনে হবে ‘হেলথ সিটি’, বিনিয়োগের ঘোষণা আদানি গ্রুপের 

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এবার আসবে আমূল পরিবর্তন। রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই একের পর এক শিল্পগোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করছে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) গত ৩ জুন নবান্নে আদানি গোষ্ঠীর এমডি কর্ণ আদানির সঙ্গে সাক্ষাৎকার করেন। সেখানেই বেশ কিছু বিনিয়োগের ঘোষণা করা হয়। সেই সূত্র ধরেই কলকাতার নিউটাউনে বিপুল পরিমাণ জমিতে আদানি হেলথ সিটি (Adani Health City) গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে আদানি গোষ্ঠী। জানা গিয়েছে, এই হাসপাতালে এবার একসাথে ১০০০ বেড রাখা হবে। ফলে চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে আরও উন্নত হবে বাংলা।

বাংলায় তৈরি হচ্ছে আদানি হেলথ সিটি

প্রসঙ্গত, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেই আদানি গোষ্ঠী এই বিনিয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করে। সেক্ষেত্রে এই হেলথ সিটি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করা হয়। যদি এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হয় তাহলে এটিই হবে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি বিনিয়োগ। এমনকি এতে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর একেবারে আমূল বদলে যাবে বলেই মত প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে একদিকে যেমন মধ্যবিত্ত বা গরিব মানুষরা চিকিৎসা সহায়তা পাবেন, ঠিক তার পাশাপাশি বিদেশী রোগীদের জন্য চিকিৎসা পরিষেবা আরও উন্নত হবে। এমনকি আদানি গোষ্ঠীর দেখাদেখি আরও অন্যান্য শিল্পপতিরাও বাংলার স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করতে পারে বলে অনুমান করছে ওয়াকিবহাল মহল।

কী কী থাকবে এখানে?

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, কলকাতার নিউটাউনে এই আদানি হেলথ সিটি গড়ে উঠবে। যেখানে থাকবে ১০০০ শয্যার একটি অত্যাধুনিক মাল্টি সুপার স্পেশালিস্ট হাসপাতাল। তবে সবথেকে বড় ব্যাপার, এই ১০০০ শয্যার মধ্যে ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ৫০০টি বেড গরিব বা মধ্যবিত্ত মানুষদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। সেখানেই মিলবে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা। এমনকি বাজার দর অনুযায়ী এখানে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। আর উন্নত প্রযুক্তি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এখানে পরিষেবা দেওয়ার দায়িত্বে থাকবে।

আরও পড়ুন: এইসব মহিলারা পুনরায় আবেদন করলেও পাবে না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

এবার বাকি ৫০ শতাংশ অর্থাৎ বাকি ৫০০টি বেড থাকবে আন্তর্জাতিক মানের পেইড ক্যাটাগরি হিসেবে সাধারণ বা বিদেশি রোগীদের জন্য চিকিৎসার ক্ষেত্রে বরাদ্দ। আর এই বেডগুলিতে চিকিৎসার জন্য বাড়তি টাকা খরচ করতে হতে পারে। এমনকি সবথেকে বড় ব্যাপার, এখানে শুধুমাত্র হেলথ সিটি বা হাসপাতাল তৈরি করা হবে না, বরং এটি সম্পূর্ণ একটি হাব হিসেবেই গড়ে উঠবে। এর পাশাপাশি একটি মেডিকেল কলেজ থাকবে। যেখানে প্রতিবছর ১৫০ জন এমবিবিএস ছাত্র ভর্তি হতে পারবে। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে বায়োমেডিক্যাল ইনফরমেটিক ও ক্লিনিকাল রিসার্চের ল্যাব থাকবে এই মেডিকেল কলেজে, এবং সেখানে আন্তর্জাতিক মানের গঠন-পাঠন করানো হবে।

Leave a Comment