নানা অ্যাকাউন্টে ৫০ লাখের লেনদেন, অন্যের সম্পত্তি আটকে রাখা! দেবরাজ কাণ্ডে নতুন তথ্য

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: অন্যের সম্পত্তি জোর করে হাতিয়ে নেওয়া, তোলাবাজির অভিযোগে আগেই গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের (Trinamool Congress) দৌড়দণ্ডপ্রতাপ নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী (Debraj Chakraborty)। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য সিট গঠন করেছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি সেই সিটের আধিকারিকরাই তৃণমূল নেতার বক্তব্য অসঙ্গতি এবং আয়ের উৎসের সাথে সম্পত্তির হিসেব খতিয়ে দেখতে দেবরাজকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করেন তাঁরা। আর তারপরই বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

একাধিক অ্যাকাউন্টে 50 লাখের লেনদেন

সিটের তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর বক্তব্যে অসঙ্গতি এবং আয়ের প্রকৃত উৎস খুঁজতেই তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হয়েছিল। শনিবার রাতে, অন্তত তিন ঘন্টা জেরার পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পান তদন্তকারীরা। সিটের তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, দেবরাজ চক্রবর্তীর তরফে দেওয়া তাঁর আয়ের হিসেবের সাথে মূল সম্পত্তির বিস্তর ফারাক রয়েছে।

তদন্তকারীরা অনুমান করছেন, একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কালো টাকা লেনদেন করেছেন দেবরাজ। বলাই বাহুল্য, এর আগে দেবরাজের বাড়ি এবং একাধিক ফ্ল্যাটে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে পাঁচটি অ্যাকাউন্টের হিসেব পাওয়া গিয়েছিল। জানা যায়, বিধানসভা নির্বাচনের আগে ওই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে অন্তত 50 লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। তবে ওই অর্থ কোথা থেকে এলো অর্থাৎ অর্থের মূল উৎস কী তা জানা যায়নি। সেই হিসেব জানতেই শুরু হয়েছে তদন্ত।

অবশ্যই পড়ুন: বাজেটে কী থাকবে জানানোই হতো না অর্থমন্ত্রীকে! পদ ছেড়েই মমতার বদনাম শুরু চন্দ্রিমার

কয়েকটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে কালো টাকা সাদা করতে বেনামে বিভিন্ন সম্পত্তি কিনেছিলেন দেবরাজ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য এই নেতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জমি জোর করে আটকে রাখারও অভিযোগ আছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা তোলারও। তদন্তকারীরা আশা করছেন, এই দেবরাজ চক্রবর্তীকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে ভবিষ্যতে বিস্ফোরক সব তথ্য সামনে আসতে পারে।

Leave a Comment