প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাবার পর এবার মেয়ের কীর্তি ফাঁস! উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদে থাকাকালীন বিপুল খরচা করেছেন বলে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের (Jyotipriya Mallick) মেয়ে প্রিয়দর্শিনী মল্লিকের (Priyadarshini Mallick) বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, মাত্র ১ বছরে নাকি তাঁর ক্যান্টিনের বিল দাঁড়িয়েছে ১ কোটি টাকারও বেশি! আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে। প্রশ্ন উঠছে, এত বিপুল টাকা খরচ হল কীভাবে?
১ কোটির বিল ক্যান্টিনে!
জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রিয়দর্শনী মল্লিককে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নতুন সচিব করা হয়েছিল। ওই সময়ে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান, বৈঠক এবং কর্মসূচির খাবারের দায়িত্ব একটি নির্দিষ্ট ক্যান্টিন সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল। সেই সূত্রেই ব্যয়ের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় বলে মনে করা হচ্ছে। শুধুমাত্র গত অর্থবর্ষেই এই খাতে ১ কোটির বেশি টাকা খরচ হয়েছে বলে দাবি। বিষয়টি নিয়ে সেই সময় থেকেই আর্থিক আধিকারিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। তবে এখন সরকার পরিবর্তন হতেই পুনরায় সেই প্রসঙ্গ আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে। প্রাথমিকভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও অসঙ্গতির অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেছে বলে সূত্রের খবর। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কী বলছেন শিক্ষা সংসদের প্রাক্তন সভাপতি?
সূত্রের খবর, প্রিয়দর্শিনী মল্লিকের বিপুল খরচের প্রসঙ্গ টেনে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের প্রাক্তন সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “এতটা বিল নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত ছিলাম না। এটা নিয়ে সেই সময় ফিন্যান্স অফিসারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি চিন্তিতও ছিলাম। সে জন্য ফের টেন্ডার ডাকা হয়। যে কোনও বিষয়ে তদন্ত হতেই পারে। আমাকে যদি ডাকা হয় তাহলে সেখানে আমি যা বলার সেটা বলব। এখন শুনছি টেন্ডারেও প্রাথমিকভাবে অসঙ্গতির অভিযোগ জমা পড়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।”
আরও পড়ুন: আজ বৈভবকে অভিষেক করা থেকে আটকাতে পারবে না কেউ? ইঙ্গিতে বোঝালেন নিজেই
পাল্টা অভিযোগ প্রিয়দর্শিনীর
ইতিমধ্যেই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রিয়দর্শিনী মল্লিক। তিনি জানিয়েছেন, “আমি এখানে ঢুকে দেখছি একটা সংস্থা আগে থেকেই বরাত পায়। তাঁদের সঙ্গে আবার চুক্তির কোনও কাগজ নেই। আর দিনের শেষে প্রেসিডেন্টই সর্বোচ্চ। তিনিই শেষ কথা, তিনিই বলতে পারবেন কেন মান্যতা দিয়েছিলেন। উনি হয়তো মনে করেছেন খরচার প্রয়োজন আছে তাই করেছেন।” প্রসঙ্গত, বর্তমানে আশুতোষ কলেজের মাইক্রো বায়োলজির অধ্যাপক হিসাবে কাজ করছেন প্রিয়দর্শিনী। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বিকাশ ভবনের স্কুল শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করে তাঁকে সচিব পদ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছিল। এখন দেখার এই বিষয়ে আর কোনো নয়া তথ্য প্রকাশ্যে আসে কিনা।