অমরনাথ যাত্রা শুরুর পাঁচ দিনের মধ্যেই অদৃশ্য হলেন বাবা বরফানি, তীর্থযাত্রীদের মাথায় হাত

অনন্যা সরকার, জম্মু ও কাশ্মীর: অমরনাথ (Amarnath Yatra) তীর্থযাত্রীদের বড় দুঃসংবাদ। যাত্রা শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচ দিন হয়েছে, তার মধ্যেই প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি শিবলিঙ্গটি সম্পূর্ণ গলে গেছে। সংবাদ সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রায় এক লক্ষেরও বেশি ভক্ত ইতিমধ্যে গুহায় পৌঁছে বাবা বরফানির দর্শন সেরেছেন। এবছরের অমরনাথ যাত্রা শুরু হয় ৩রা জুলাই, কিন্তু পাঁচ দিনের মাথাতেই স্বয়ম্ভু সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেছে। ৫৭ দিনব্যাপী এই অমরনাথ যাত্রা প্রতি বছর রাখপূর্ণিমা বা শ্রাবণ পূর্ণিমায় শেষ হয়। তবে, মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে বাবা বরফানির (Baba Barfani) এই অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ঘটনায় অমরনাথ যাত্রা শ্রাইন বোর্ড প্রশ্নের মুখে পড়েছে। 

কেন মাত্র পাঁচ দিনেই অদৃশ্য হয়ে গেলেন স্বয়ম্ভু?

অমরনাথ যাত্রা শ্রাইন বোর্ডের কর্মকর্তারা দর্শনার্থীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন। তবে পরিবেশবিদরা বলছেন, নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি তীর্থযাত্রীকে যাত্রার অনুমতি দেওয়ার ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের দাবি, লক্ষ লক্ষ ভক্তের উষ্ণ প্রশ্বাসের তাপ বরফের শিবলিঙ্গটি সহ্য করতে পারেনি, আর শ্রাইন বোর্ডের কর্মকর্তারা বিষয়টি মেনে নিলেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তার ওপর, বাবা বরফানির গলে যাওয়া রোধ করতে যে সময় নেওয়া হয়েছিল, তাও অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়। 

বছরের পর বছর ধরে আবহাওয়া ও তাপমাত্রা অনুযায়ী অমরনাথ গুহার প্রাকৃতিক বরফলিঙ্গটি নিজস্ব আকার ধারণ করে এবং সময়ের সাথে সাথে ধীরে ধীরে গলে যায়। এবার অমরনাথ তীর্থযাত্রা শুরু হওয়ার ৫ দিনের মধ্যেই লিঙ্গটি সম্পূর্ণভাবে গলে গেছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, উচ্চভূমিতে আবহাওয়ার পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক পরিস্থিতি এই বরফলিঙ্গের গঠন হওয়া ও গলনকে প্রভাবিত করে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৩ মে অমরনাথের বরফলিঙ্গটির উচ্চতা ছিল ৭ ফুট, ২৯ জুন তা কমে ৫ ফুটে দাঁড়ায়। আর আজ, ৭ জুলাই যে ছবি সামনে এসেছে, তাতে বরফলিঙ্গের কোন অস্তিত্বই আর দেখা যাচ্ছে না। তবে এটাই প্রথমবার নয়, যখন লিঙ্গমটি দ্রুত গলে গেছে। গত কয়েক বছর ধরেই এমনটাই দস্তুর। বিশ্ব উষ্ণায়নের, জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান তাপের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

অনন্তনাগের অমরনাথ গুহাটি হিমবাহ দ্বারা পরিবেষ্টিত। যাত্রা শুরু হওয়ার পর দর্শনার্থীর সংখ্যা যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, ততই বাড়ছে তাপমাত্রা। ফলে গলে যাচ্ছে হিমবাহগুলি। ২০১৬ সালেও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, যখন তীর্থযাত্রা শুরু হওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথাতেই বাবা বরফানি সম্পূর্ণ গলে গিয়েছিলেন। ২০১৩ সালেও তীর্থযাত্রা শেষ হওয়ার আগেই বরফ-লিঙ্গটি অদৃশ্য হয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, এই বছর অমরনাথ যাত্রা ৩ জুলাই শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ২৮ আগস্ট, রাখিবন্ধনের দিন অবধি। এই তীর্থযাত্রা প্রতিবছরই ৫৭ দিন ধরে চলে। হিন্দুধর্মে অমরনাথ যাত্রাকে অতি পবিত্র তীর্থযাত্রা বলে গণ্য করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে, অমরনাথ যাত্রায় মানুষের সব পাপ মুছে যায় এবং তারা জন্ম মৃত্যুর আবর্তন থেকে মুক্তি লাভ করে। হিন্দুদের বিশ্বাস, এই গুহাতেই ভগবান শিব দেবী পার্বতীকে জানিয়েছিলেন অমরত্বের রহস্য। তাই এই তীর্থযাত্রার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। 

Leave a Comment