সরকারি স্কুলে হবে না রাজনৈতিক কর্মসূচি বা নেতার জন্মদিন উদযাপন, কড়া নির্দেশ রাজ্যের

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: শিক্ষার পরিবেশকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রাখতে বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের। রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে (Government School) এবার থেকে কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী কিংবা বেসরকারি কোনও ব্যক্তির শ্রেণীকক্ষে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এমনকি কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তির জন্মদিন উদযাপনের ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে স্কুলে প্রবেশের অনুমতি পাবে।

স্কুলগুলিতে রাজনৈতিক প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

তামিলনাড়ু সরকারের নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষ শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশ গড়ে তোলার জন্যই। সেখানে কোনও রাজনৈতিক নেতার প্রশংসা, প্রচার বা ব্যক্তি বিশেষকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা চলবে না। সরকারের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হল জ্ঞানচর্চা। তাই শিক্ষার পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে এরকম ধরনের কোনও কার্যকলাপ ভবিষ্যতে বরদাস্ত করা হবে না বলেই জানিয়েছেন বিজয়ের সরকার।

এদিকে সরকারি স্কুলে রাজনৈতিক নেতাদের জন্মদিন উদযাপন বা সেই উপলক্ষে কোনওরকম অনুষ্ঠান করার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের স্পষ্ট দাবি, এই সিদ্ধান্তে শিক্ষাঙ্গন রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারবে, এবং ছাত্রছাত্রীরা নিরপেক্ষ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। এমনকি ছোট থেকে ছাত্র রাজনীতির প্রবণতাও বন্ধ হবে। এছাড়া সরকারি স্কুলে ভবিষ্যতে কোনও অনুষ্ঠান আয়োজন ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা দফতর।

আরও পড়ুন: ভিক্টোরিয়ায় পৌঁছে গেল TMB দুর্গা, জোকা-এসপ্ল্যানেড রুটে বিরাট সাফল্য কলকাতা মেট্রোর

উল্লেখ্য, এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি তামিলনাড়ু সরকার রাজ্য শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সাফল্যের দিকও তুলে ধরেছে। সাম্প্রতিক ইউনিফাইড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন বা UDISE-র তথ্য অনুযায়ী, দেশের গড়ের তুলনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূচকে এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যটি। বর্তমানে তামিলনাড়ুতে মোট ৫৭,৫৬৬টি স্কুল রয়েছে, যেখানে প্রায় ১.২৪ কোটি পড়ুয়া। আর তাদের জন্য নিয়োজিত রয়েছেন ৫.৭৯ লক্ষ শিক্ষক।

Leave a Comment