প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দূরে ভ্রমণ হোক কিংবা কাছে, সকলেরই প্রথম পছন্দ থাকে ট্রেন। সেই কারণে ভারতের অন্যতম যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে রেল পরিষেবা (Indian Railways)। কিন্তু মাঝে মধ্যে সেই পরিষেবায় নানা ত্রুটি দেখা যায়, যার ফলে ট্রেন দুর্ঘটনার মত একাধিক ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। ঠিক তেমনই গতকাল, অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল পাটনা-হাওড়া জন শতাব্দী এক্সপ্রেস (Patna Howrah Jan Shatabdi Express)। আতঙ্কে হইহই রব উঠেছিল ট্রেনের অন্দরে। অবশেষে রেল লাইনের পাতের মেরামতি করে ট্রেন চলতে শুরু করেছিল নিজের গন্তব্যে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার পাটনার আথমালগোলা স্টেশনের কাছে ১২০২৪ পাটনা-হাওড়া জন শতাব্দী এক্সপ্রেস অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। জানা গিয়েছে, বখতিয়ারপুর ছাড়ার পর এক্সপ্রেস ট্রেনটি দ্রুত গতিতে আথমগোলা স্টেশন যখন অতিক্রম করছিল। তখন সেই স্টেশনের স্টেশন মাস্টার এবং পোর্টার মিলন কুমার সবুজ পতাকা দেখিয়ে এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে এগিয়ে যাওয়ার সংকেত দিচ্ছিলেন। কিন্তু পরে মিলন কুমার খেয়াল করেন যে ট্রেনের চাকা থেকে তীব্র শব্দ আসছে। শুধু তাই নয়, তিনি দেখেন বিকট শব্দের পাশাপাশি রেললাইন থেকে পাথর ছিটকে এসে প্ল্যাটফর্মে পড়ছে।
ওয়াকি-টকির মাধ্যমে গার্ডের সাথে যোগাযোগ
রেললাইনের এমন পরিস্থিতি দেখে এবং বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করে সঙ্গে সঙ্গে মিলন কুমার লোকো পাইলটকে লাল পতাকা দেখিয়ে ট্রেনটিকে থামানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু ততক্ষণে ট্রেনটি অতিক্রম করে ফেলে, এরপর কোনো কিছু না ভেবেই সঙ্গে সঙ্গে স্টেশন মাস্টার ওয়াকি-টকির মাধ্যমে গার্ডের সাথে যোগাযোগ করে ট্রেনটিকে আচুয়ারা হল্ট-এ থামানোর নির্দেশ দেন। তারপরেই ট্রেনটি কিছুক্ষণ আথমালগোলা স্টেশনের কাছে ‘ডাউন’ লাইনের ৪৮৯/১২ নম্বর পোলের কাছাকাছি ‘আচুয়ারা হল্ট’-এ দাঁড়িয়ে ছিল। এদিকে গার্ড ও লোকো পাইলট ট্রেনের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালালেও কোনো ত্রুটি খুঁজে পাননি।
আরও পড়ুন: বাংলার নদীতে ইলিশের দেখা, হাসি ফুটেছে মৎস্যজীবীদের মুখে
পরে গার্ড ও লোকো পাইলট রেললাইনের পাত পরীক্ষা করার সময় দেখতে পায় যে, রেললাইনকে ধরে রাখার জন্য যে লোহার পাতগুলি রয়েছে তার মধ্যে একটি পাত আলগা হয়ে গিয়েছে, যার ফলে লাইনটি কাঁপছিল এবং নীচের পাথরগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছিল। এরপরই রেলওয়ের একটি কারিগরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাইনটি মেরামত করে। ঠিক সময়মত যদি স্টেশন মাস্টার এবং পোর্টার মিলন কুমার এই দৃশ্য না দেখত এবং ট্রেনটি না দাঁড় করাতো তাহলে বড় দুর্ঘটনা হতে পারত। তারপর সবকিছু ঠিকঠাক করা হলে ট্রেনটি পুনরায় রওনা দিয়েছিল।