পড়াশোনায় ক্ষতি পড়ুয়াদের! রাজ্যে ফের চালু হল মর্নিং স্কুল

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আর কিছুদিন পর থেকেই শুরু হবে জনগণনা, আর এই কাজে ঢালাও নিয়োগ করা হয়েছে স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষিকাদের। তার জন্য আগে দরকার ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ (Census Training)। আর এ সবের জেরে পড়ুয়াদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুরের (Purba Medinipur) বেশ কয়েকটি স্কুলে ঠিকমত ক্লাস হচ্ছে না, আর এই পরিস্থিতির জন্যে প্রশ্নের মুখে পড়ছে সেনসাস বিভাগ সহ স্কুলশিক্ষা দপ্তরও। তাই এবার সেই সমস্যা দূর করতে ফের মর্নিং স্কুলের (Morning Class) ঘোষণা করল প্রশাসন।

ফের শুরু হবে মর্নিং স্কুল

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, মঙ্গলবার মর্নিং স্কুল চালু নিয়ে এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের অধীনে, যে সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা জনগণনা ট্রেনিংয়ে যোগ দেবেন, সেই সকল স্কুলগুলোতেই কেবলমাত্র ‘ট্রেনিংয়ের দিন’ মর্নিং স্কুল করানো হবে। একাধিক জেলায় জনগণনার কাজের জন্য সরকারি স্কুল থেকে শিক্ষক শিক্ষিকাদের নানারকম সমস্যা হচ্ছে। পঠনপাঠন ঠিকভাবে না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অভিভাবকরা। যদিও বাকি জেলাগুলিতে এই নিয়ে কিছুই জানানো হয়নি।

ব্যাপক সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষক পড়ুয়ারা

বেহাল দশা উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে, ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর ব্লকে বাবু ডুমরু হাইস্কুলে পঞ্চম থেকে দশমে ভূগোলের একজনই শিক্ষক। প্রথমে তাঁকেও বিএলও ডিউটি দেওয়া হয়েছিল সেই সময় পড়াশোনায় বেশ ক্ষতি হয়েছিল পড়ুয়াদের। আর এবার জনগণনার কাজের জন্য একাদশ–দ্বাদশে ইতিহাসের শিক্ষকদের ডাকা হচ্ছে। এই বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করছেন, ‘শিক্ষকরা ক্রমাগত স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা জনগণনার কাজ করলে স্কুলে পড়াবেন কারা?’ যদিও এই নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড গ্রহণ করা যাবে, বড় রায় কলকাতা হাইকোর্টের

রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে এই অচলাবস্থার কথা শুনে স্কুলশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘আমি খোঁজখবর নিচ্ছি। পড়াশোনা বন্ধ না করেই দু’টি কাজ কী ভাবে সম্পন্ন করা যায়, তার বিকল্প পথ খুঁজে বার করতে হবে।’ তবে আপাতত পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলির ক্ষেত্রে মর্নিং স্কুলের নোটিস দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment