সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ছাত্রদের পর দিল্লি অভিযানের ডাক দিয়েছিল কৃষকরা (Farmer Protest)। ভারত-মার্কিন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিরোধীতা করে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে আলোচনায় বসার দাবি ছিল তাদের। এদিন রাস্তায় নামেন কয়েকশো কৃষক এবং সামাজিক সংগঠন। বিশেষ করে পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার কৃষকরা এদিন এই আন্দোলনে শামিল হন। কিন্তু হরিয়ানা পুলিশের তরফ থেকে ব্যারিকেড বসিয়ে তাদেরকে আটকে দেওয়া হয়। তবে সেখানেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন কৃষকরা। শেষ পর্যন্ত হরিয়ানা প্রশাসনের আশ্বাস পেয়েই অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন তারা।
অবরোধ প্রত্যাহার কৃষকদের
যদিও প্রথমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আশ্বাস দিয়েছিলেন যে কৃষকদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার যা করার তা করবে। কিন্তু পরে হরিয়ানা পুলিশ প্রশাসনের ভরসা মেলায় অবরোধ তোলেন কৃষকরা, এবং তারা নিজেদের জায়গায় ফিরে যান। তাদের স্পষ্ট দাবি ছিল, কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই দাবি ইতিমধ্যেই মেনে নিয়েছে পুলিশ। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী কৃষক সমাজকে আশ্বস্ত করে কয়েকদিন আগে বার্তাও দিয়েছিলেন যে দেশের কৃষক সম্প্রদায়ের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য সরকার সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ।
আসলে কৃষকদের মূল দাবি ছিল, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা ভারতের কৃষি, দুগ্ধশিল্প কিংবা গ্রামে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার উপরে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। কারণ, বাজারে বিদেশি পণ্য এলে দেশীয় পণ্যের চাহিদা কমবে এবং কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। যার ফলে ক্ষুদ্র কৃষকদের ব্যবসা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই কারণে চুক্তি বাতিলের দাবিতে তারা কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের দাবিতে এই অভিযান চালিয়েছিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এনডিএ জোটের বৈঠকে ভারত-মার্কিন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে এই চুক্তিতে কৃষকদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাদের কোনও ক্ষতি হবে না।
আরও পড়ুন: ২১ জুলাই মঞ্চে কল্যাণকে প্রকাশ্যে ধমক মমতার! ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ সাংসদের
প্রসঙ্গত, এদিন দেশের কৃষকরা ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’-র ব্যানারে দিল্লির কিষানঘাটে কিষাণ মহাপঞ্চায়েতে যোগ দিতে রওনা হয়েছিলেন। তাদের একটাই দাবি ছিল, ভারত-মার্কিন প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে, এবং কৃষক সংগঠনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তবে সেই দাবি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মান্যতা দেওয়ায় এবং হরিয়ানা পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে আশ্বাস মেলায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন দেশের কৃষকরা।