বকেয়া বিল না মেটালেই FIR, হাজার হাজার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করল সরকার

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সরকার গঠন করেই জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্নীতির সঙ্গে কোনপ রকম আপস নয় এ কথা বারবার বলেছে রাজ্য সরকার। সেই কারণেই এবার জেলাজুড়ে বিদ্যুৎ (Electricity) চুরি রুখতে এবং বকেয়া বিল আদায় করতে বিরাট পদক্ষেপ নিল মেদিনীপুরের জেলা বিদ্যুৎ বণ্টন দফতর। জানা গিয়েছে, একধাক্কায় এবার ৮৩০০-র বেশি বাণিজ্যিক এবং শিল্প সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে এই জেলায়।

বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বড় পদক্ষেপ রাজ্যের

দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠে আসছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় রমরমিয়ে বিদ্যুৎ চুরি করছে আমজনতা, এবং মাসের পর মাস ধরে বিল বকেয়া রেখে দিচ্ছে। সেই কারণেই এবার মোট ৮৩০০-র বেশি বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবে রাজ্য সরকার। এমনকি ইতিমধ্যেই ৩০০০ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলেও খবর। হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক সংস্থার কাছে বকেয়া রেখে রেখে তা কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছে গিয়েছে।

সবথেকে বড় ব্যাপার, বকেয়া আদায় করতে গেলে বিদ্যুৎ বন্টন কর্মীদের বিভিন্ন বাধার মুখে পড়তে হত। তবে এবার আইন মেনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেই জানিয়েছে রাজ্যের বিদ্যুৎ বন্টন দফতর। মুখ্যমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতিকে হাতিয়ার করেই এবার বিদ্যুৎ বন্টন ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আনা হবে। এমনকি কোনও রাজনৈতিক প্রচারে বা প্রভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে না বলেই জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে জেলার বিদ্যুৎ বন্টন দফতরের আধিকারিক নারায়ণ ভৌমিক জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনেই এই গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

আরও পড়ুন: ‘বিদেশি ফান্ডে চলছে আন্দোলন’, CJP-র বিরুদ্ধে NIA তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টে মামলা

এও জানানো হয়েছে, প্রয়োজন পড়লে নোটিশ দিয়ে আইন অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। এমনকি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রায় মোট ১১ লক্ষ ৩৮ হাজার গৃহস্থলীর বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও শিল্পক্ষেত্রে প্রায় ১ লক্ষ ২৬ হাজার সংযোগ রয়েছে বলে খবর, যার মধ্যে বিপুল অংকের টাকা দীর্ঘদিন ধরেই বকেয়া জমে রয়েছে। এমনকি মোট কত টাকা বকেয়া রয়েছে তার হিসাবও তৈরি করা হচ্ছে। আর সেক্ষেত্রে কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নমনীয় মনোভাব দেখানো হবে না বলেও জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।

Leave a Comment