অনন্যা সরকার, ঝাড়গ্রাম: শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি (Bengal Safari) পর্যটকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এবার তারই অনুকরণে দক্ষিণবঙ্গের ঝাড়গ্রামে (Jhargram) প্রায় ১,০০০ একর জমির ওপর মুক্ত সাফারি পার্ক (Safari Park) নির্মাণ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই এই পার্ক তৈরির ঘোষণা করেছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ। তাঁর ঘোষণার পর থেকেই জঙ্গলমহলের এই মেগা প্রজেক্ট নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছে প্রশাসন। এখন ঝাড়গ্রামের নতুন এই সাফারি পার্কটির মূল আকর্ষণ হিসেবে শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি থেকে আনানো হচ্ছে পাঁচটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এবং চিতাবাঘ।
ঝাড়গ্রামের সাফারি পার্কে দেখা যাবে বাঘ ও চিতাবাঘ
পশ্চিমবঙ্গের জু অথরিটি (West Bengal Zoo Authority) ইতিমধ্যেই বেঙ্গল সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষকে পাঁচটি বাঘ ঝাড়গ্রামে পাঠানোর জন্য চিহ্নিত করে দরকারি পদক্ষেপগুলি নিতে বলেছে। তার সাথেই, সেন্ট্রাল জু অথরিটির কাছেও ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। নতুন পার্কটিতে জীবজন্তুর বৈচিত্র্য বাড়ানোর জন্য পরবর্তী ধাপে বেঙ্গল সাফারি থেকেই অপূর্ব সুন্দর হগ ডিয়ার ও স্পটেড ডিয়ার ঝাড়গ্রামে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রজনন প্রক্রিয়ায় সফলতা আসায় সাফারি পার্কে বাঘের সংখ্যা এখন ১৪। ফলে দেশের বিভিন্ন চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্কের সঙ্গে পশুপাখি বিনিময়ের ক্ষেত্রে বেঙ্গল সাফারি বর্তমানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
আরও পড়ুন: জেনে নিন ডিমওয়ালা ইলিশ চেনার সহজ উপায়
প্রসঙ্গত, শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি থেকে ২০২২ সালে আলিপুর চিড়িয়াখানায় ‘স্নেহাশিস’ নামের একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে স্থানান্তরিত করা হয়। ২০২৪ সালে ত্রিপুরার সিপাহিজালা চিড়িয়াখানায় দুটি বাঘকে পাঠানো হয়। এমনকি চলতি মাসেই বন্যপ্রাণ বিনিময় কর্মসূচির আওতায় একটি বাঘ দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিকাল পার্কে এসেছে, যার পরিবর্তে বেঙ্গল সাফারিতে গেছে একটি বিরল সাইবেরিয়ান রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।
আরও পড়ুন: বর্ষায় গাছকে সুস্থ রাখতে মেনে চলুন এই বিশেষ ৫ টিপস
বেঙ্গল সাফারিতে যেসমস্ত প্রানী উদ্বৃত্ত রয়েছে, তাদের ঝাড়গ্রামে স্থানান্তরিত করে নতুন পার্কটি দ্রুত ভরিয়ে তোলা হবে। এই নয়া উদ্যোগ প্রসঙ্গে রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে, তা নয়। এর পাশাপাশি জঙ্গলমহল তথা দক্ষিণবঙ্গের স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পেও উন্নতি হবে। খোলা জঙ্গলে বাঘ দেখার রোমাঞ্চ উপভোগ করতে কলকাতা বা তার পার্শ্ববর্তী জেলার পর্যটকদের আর দূরের কোনো সাফারি পার্ক বা অভয়ারণ্যে ছুটতে হবে না।