সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। সরকার গঠন করেই স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আজ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তৎকালীন সরকারের আমলে ঘটা একাধিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুক্ত থাকা পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিলেন তিনি। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের রাজবংশী যুবক মৃত্যুঞ্জয় বর্মনকে পুলিশের গুলিতে হত্যা থেকে শুরু করে কালী মূর্তি প্রিজন ভ্যানে টেনে তোলা, কিংবা কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পূজার বিসর্জনের লাঠিচার্জ, একাধিক ঘটনায় যুক্ত থাকা একজন আইপিএস আধিকারিকসহ একাধিক পুলিশ কর্মীকে বরখাস্ত করার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর।
বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু অধিকারীর
প্রথমত, কালিয়াগঞ্জে নবম শ্রেণীর এক রাজবংশী ছাত্রীর উপর নৃশংস হত্যার ঘটনায় পুলিশী অন্যায়ের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আজ তিনি বলেন, অভিযুক্ত স্থানীয় তৃণমূল উপ প্রধানের ছেলের গ্রেফতারের দাবিতে যখন সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তখন পুলিশ জোরপূর্বক ওই নাবালিকার দেহ অসংবেদনশীল ভাবে রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। এমনকি মারধর করার অভিযোগও ওঠে পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে। বিগত সরকার পরিবারটিকে এক টাকাও ক্ষতিপূরণ দেয়নি বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রেক্ষাপটে এএসআই মোয়াজ্জেম হোসেনকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
তবে শুধু এই ঘটনা নয়, বিগত সরকারের আমলে ঘটা একাধিক ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক পঙ্কজ দত্তকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে রাজনৈতিক নির্দেশে নিগ্রহ করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পঙ্কজ দত্তকে বেনারসি একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার আগে বড়তলা থানায় একাধিক দিন সকাল ১০টা থেকে প্রায় রাত ১০টা পর্যন্ত আটকে রাখা হত। এমনকি ১২ ঘন্টা বসিয়ে রেখে তাঁকে জলটুকু খেতে দেওয়া হত না। এই ঘটনার পিছনে যুক্ত থাকা তদন্তকারী আধিকারিক সাধন দাস এবং বড়তলা থানার তৎকালীন আইসি সুবর্ণ দত্ত চৌধুরীকে বরখাস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরেও পিছু হটবে না আরশোলারা, সরকারকে মানতে হবে আরও ২ দাবি
এছাড়া তৃণমূলের আমলে একাধিক জায়গায় মূর্তি ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটে। যেমন কাকদ্বীপের সূর্যনগরে কালীপূজার সময় এক প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে সরব হওয়া সাধারণ মানুষের উপর পুলিশ সুপার আইপিএস কোটেশ্বর রাও এর নেতৃত্বে লাঠিচার্জ করানো হয়। এমনকি তারপর মা কালীর মূর্তি প্রিজন ভ্যানে করে তুলে আনা হয়। সেই কারণে ওই পুলিশ সুপারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পূজা বিসর্জনের দিন পুজো উদ্যোক্তা এবং ভক্তদের উপর লাঠিচার্জ করা হয় এবং সনাতন ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করা হয়। এই অভিযোগে ইন্সপেক্টর অমলেন্দু বিশ্বাসকে বরখাস্ত করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।