প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পাথর ব্যবসায়ী, টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) পাহাড় সমান সম্পত্তির হদিশ মিলতেই তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক শিবিরে। কোটি কোটি টাকা নগদ এবং বিপুল সোনা উদ্ধার নিয়ে রীতিমত একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে ইতিমধ্যেই টাকা ও সোনা মিলিয়ে উদ্ধার ৫০ কোটিরও বেশি। মিলেছে সোনার বাট ও বিস্কুটও। আর এবার এই উদ্ধার হওয়া সম্পত্তি নিয়ে মুখ খুললেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি এই ঘটনায় নেপথ্যে যোগ রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee)। তাই কড়া ‘অ্যাকশনে’র হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।
টুলু মণ্ডলের সম্পত্তির বিবরণ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
একসময় বাংলায় নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে কোটি-কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছ তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির খাটের নিচ থেকে। এবারও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল, বীরভূমের প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী, টুলু মণ্ডলের পাহাড় প্রমাণ সম্পত্তির হদিশ মিলতেই চক্ষু চড়কগাছ সকলের। আর এবার এই দুর্নীতি কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ঠিক কোন কোন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে টুলুর, তা আজ, শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে আপডেট দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, “টুলু মণ্ডলের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে থাকা ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। নগদ ৫৩ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।”
কী বলছেন শুভেন্দু অধিকারী?
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী আরো জানিয়েছেন যে, “২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো ও ৬৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম উদ্ধার হয়েছে পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের কাছ থেকে। এছাড়াও ৩টি টাকা গোনার মেশিন, ১ কম্পিউটার ও সিপিইউ, ২টি পেনড্রাইভ পাওয়া গিয়েছে। ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার, বিএমডব্লিউ, অডি মিলিয়ে মোট ২৪২টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।” এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ২১টি সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। যার মধ্যে ৭টি বাড়ি, ১টি ফার্মহাউস রয়েছে। সবমিলিয়ে ৩০০ বিঘা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে।” যদিও এখনও বেপাত্তা টুলু। অনুমান করা হচ্ছে, বিদেশে গিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন তিনি। এদিকে এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে।
আরও পড়ুন: আগস্টের শুরুতেই হাওড়া, শিয়ালদা থেকে একগুচ্ছ ট্রেন বাতিলের ঘোষণা রেলের
উল্লেখ্য, রাজ্যে সরকার গঠনের শুরু থেকেই দুর্নীতির মাথাদের রেয়াত করা হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবারও এই ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, “মূল মাথার খোঁজে যা যা করার করব। এত বড় দুর্নীতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সাপোর্ট ছাড়া হতে পারে না। এটা একদিনের একটা ঘটনা নয়। আমার রাজ্যে কী ঘটছে, তার জন্য আমি দায়ী নয়। কিন্তু তারপর কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন, সেটাই আসল। বেচারি পুলিশ, জেলাশাসককে দোষ দিয়ে কী লাভ আছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”