বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: তৃণমূল আমলে জব কার্ডে (Job Card) দুর্নীতি হয়েছে, সে কথা এখন সর্বসমক্ষে। 2022 সাল থেকে বাংলায় জব কার্ডে ভুরি ভুরি দুর্নীতি হয়েছে এমন অভিযোগ তুলেই আর্থিক বরাদ্দ বন্ধ রেখেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। বাংলায় পালাবদলের (Government Of West Bengal) পরই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, প্রত্যেকটি ভুয়ো জব কার্ড বাতিল করা হবে। সেই মতোই, শুরু হয়েছে জব কার্ড বাতিলের কাজ। নবান্নের কয়েকটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আজ পর্যন্ত সর্বসাকুল্যে মোট 21 লাখ জব কার্ডকে ভুয়ো চিহ্নিত করল সরকার।
সবচেয়ে বেশি জব কার্ড বাতিল হল এই জেলায়
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আগেই মনরেগা প্রকল্প বদলে 125 দিনে ভিবি জি রামজি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। সেই প্রকল্পের অধীনে কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে পহেলা জুলাই থেকেই। সরকারি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আজ পর্যন্ত 21 লাখ ভুয়ো জব কার্ড চিহ্নিত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি জব কার্ড বাতিল হয়েছে দক্ষিণ 24 পরগনায়। জানা যাচ্ছে, এই জেলায় কম করে সাড়ে 3 লাখ জব কার্ড বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম জব কার্ড বাতিল হয়েছে কালিম্পং এ।
উত্তরবঙ্গের এই জেলার জিটিএ অঞ্চলে 976টি জব কার্ড বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুরের মতো জেলায় প্রচুর সংখ্যক জব কার্ড বাতিল করে দিয়েছে সরকার। রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, তৃণমূল আমলের একেবারে শেষের দিকে পশ্চিমবঙ্গে জব কার্ডের সংখ্যা ছিল 2 কোটি 56 লাখ। এগুলির মধ্যে 80 শতাংশের বেশি জব কার্ডের E KYC ও ডিজিটাল ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে।
অবশ্যই পড়ুন: বিধানসভায় বলতে না দেওয়ার অভিযোগ, কুণাল ঘোষের মামলা খারিজ করল হাইকোর্ট
রিপোর্ট বলছে, রাজ্যজুড়ে জব কার্ডের E KYC এবং ডিজিটাল ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় অন্তত 21 লাখ 452টি জব কার্ডকে সম্পূর্ণ ভুয়ো বা অবৈধ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলির মধ্যে অন্তত 15 লাখ 64 হাজার 731টি জব কার্ডের ক্ষেত্রে জব কার্ড হোল্ডাররা কোনও রকম নথি দেখাতে পারেননি। নবান্নের একটি সূত্র বলছে, আগামী দিনেও পর্যায়ক্রমিকভাবে বাকি ভুয়ো জব কার্ড গুলিকেও বাতিল করা হবে। একই সাথে জব কার্ডের মাধ্যমে 100 দিনের টাকা ঢুকেছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হবে সরকারের তরফে।